
বর্ষাকালে টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যাওয়া এখন নিয়মিত ঘটনা। অনেক চালক বাধ্য হয়ে সেই জলমগ্ন সড়ক দিয়েই গাড়ি চালান। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেট্রোল, ডিজেল কিংবা ইলেকট্রিক—যে ধরনের গাড়িই হোক না কেন, জমে থাকা পানিতে চালালে ইঞ্জিন ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক গাড়ি নির্দিষ্ট উচ্চতা পর্যন্ত পানি অতিক্রম করতে পারলেও বাস্তবে জলমগ্ন সড়কে নানা ধরনের ঝুঁকি থাকে। টায়ারের মাধ্যমে পানি ইঞ্জিনে ঢুকে গেলে গাড়ি মাঝপথেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আর ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে মোটর বা উচ্চ ভোল্টেজের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমন পরিস্থিতিতে গাড়ি বন্ধ হয়ে গেলে পুনরায় স্টার্ট দেওয়ার চেষ্টা না করে সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়িতে পানি সিলিন্ডারে প্রবেশ করলে ‘হাইড্রোলক’ নামে পরিচিত গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে ইঞ্জিনের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশ বেঁকে যাওয়া বা সম্পূর্ণ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যার মেরামতে বড় অঙ্কের খরচ হয়।
এছাড়া জমে থাকা পানি গাড়ির ইঞ্জিন কন্ট্রোল ইউনিট (ইসিইউ), সেন্সর, ওয়্যারিং ও ফিউজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকলে ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যাটারি প্যাক ও হাই-ভোল্টেজ কম্পোনেন্টেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, পানি জমা সড়কে চলাচলে ব্রেকের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। ম্যানুয়াল গাড়ির ক্লাচ প্লেট এবং ইঞ্জিন অয়েলও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব কমিয়ে দেয়।
বর্ষাকালে অপ্রয়োজনে গাড়ি নিয়ে বের না হওয়া, জলাবদ্ধ সড়ক এড়িয়ে চলা, গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং বৃষ্টির সময় হেডলাইট জ্বালিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এদিকে, গাড়ির কমপ্রিহেনসিভ বিমায় যদি বন্যা বা পানিজনিত ক্ষতির কভারেজ থাকে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিমা দাবি করা যেতে পারে। তবে ইঞ্জিনে পানি ঢুকে ক্ষতি হলে অনেক ক্ষেত্রে তা বিমার আওতার বাইরে থাকতে পারে। তাই গাড়ির বিমার শর্তাবলি আগে থেকেই ভালোভাবে জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।