
টানা ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ঝালকাঠির বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিকের তুলনায় দেড় থেকে দুই ফুট বেড়ে যাওয়ায় আমন ধানের বীজতলার বড় অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে আমন চাষ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন জেলার কৃষকেরা।
কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার থেকে চলমান ভারী বৃষ্টির কারণে জেলার নিম্নাঞ্চল, নদীতীরবর্তী কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়কে পানি জমেছে। জোয়ারের প্রভাবে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি বেড়ে অনেক এলাকায় ফসলি জমিতে ঢুকে পড়েছে। এতে আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে ঝালকাঠিতে ৩ হাজার ৪৩১ হেক্টর জমিতে আমনের বীজতলা এবং ৪৬ হাজার ৭৭২ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ২ হাজার ২৬ হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত হয়েছে। তবে প্রস্তুত হওয়া বীজতলার বড় একটি অংশ বর্তমানে পানির নিচে রয়েছে।
পিংড়ি এলাকার কৃষক লিটন হোসেন, আলমগীর হাওলাদার ও শহীদুল ইসলাম জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে তাদের বীজতলা পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। দ্রুত পানি না নামলে এবং বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাবে। এতে নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে অতিরিক্ত খরচ হবে। পাশাপাশি চারা রোপণে বিলম্ব হলে উৎপাদনও কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষি বিভাগ জানায়, বর্তমানে জেলায় ৯ হাজার ৪৭৪ হেক্টর জমির আউশ ধান পরিপক্ব অবস্থায় রয়েছে। এখনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে টানা বৃষ্টি ও সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আউশ ধানও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
এ ছাড়া জেলায় ৭০ হেক্টর জমিতে হলুদ, ১৯ হেক্টর জমিতে মরিচ এবং ৩ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির আবাদ রয়েছে। দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা থাকলে এসব ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “এখন পর্যন্ত ২ হাজার ২৬ হেক্টর জমিতে আমনের বীজতলা তৈরি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বীজতলার ক্ষতি হতে পারে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোনো কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হবে।”