
নতুন নির্দেশনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার হওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন থেকে প্রবাসীদের ভোটার হওয়ার জন্য বাংলাদেশি পাসপোর্ট বাধ্যতামূলক নয়। নির্বাচনী নিবন্ধনের জন্য তিনজন এনআইডি-ধারী প্রবাসীর প্রত্যয়নপত্রসহ নির্ধারিত কাগজপত্র জমা দিলে তারা ভোটার হতে পারবেন।
নতুন প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের জমা দিতে হবে পূরণকৃত আবেদনপত্র (ফরম-২ক), জন্মনিবন্ধনের অনলাইন যাচাইকৃত কপি, রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি, এবং তিনজন প্রবাসী এনআইডি-ধারীর প্রত্যয়নপত্র। পাসপোর্ট থাকলে তার কপি জমা দেওয়া যেতে পারে, তবে বাধ্যতামূলক নয়। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আরও কিছু দলিল—যেমন পিতা-মাতার এনআইডি বা জন্মসনদ, নাগরিকত্ব সনদ, শিক্ষা সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, টিআইএন সার্টিফিকেট, বিবাহ সনদ ইত্যাদি—জমা দিতে হতে পারে।
চট্টগ্রাম বিভাগের ৫৬টি বিশেষ এলাকা থেকে প্রবাসী যারা ভোটার হতে চাইবেন, তাদের জন্য একটি বিশেষ তথ্য ফরম পূরণ করা বাধ্যতামূলক।
নিবন্ধন প্রক্রিয়া সরাসরি নিবন্ধন কেন্দ্রে করা যাবে। বিদেশে থাকলে একজন প্রতিনিধি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে কাগজপত্র জমা দিতে পারবেন।
ইসি ইতোমধ্যেই নয়টি দেশে ১৬টি মিশনে এই সেবা চালু করেছে। দেশগুলো হলো—সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা। জুলাই মাসে জাপানও যুক্ত হয়েছে। আগামীতে আরও ৪০টি দেশে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার হওয়ার দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। ২০০৭-২০০৮ সাল থেকে প্রবাসীদের এনআইডি ও ভোটার হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় ছিল। ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের অনলাইন নিবন্ধন শুরু হলেও কোভিড-১৯ মহামারির কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৩ সালের জুলাই থেকে আবারো নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে স্থগিত হয়। বর্তমানে কমিশনের নতুন নেতৃত্বে এ উদ্যোগ পুনরায় সচল হয়েছে।