
ইতালির অমীমাংসিত ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিরসনে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সোমবার (১২ আগস্ট) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে তথ্য অধিদপ্তর এ তথ্য জানায়।
‘ফ্লুসি ডিক্রি’ কর্মসূচির আওতায় ২০২২ সাল থেকে বাংলাদেশ পুনরায় মৌসুমি ও অমৌসুমি খাতে কর্মী পাঠানোর সুযোগ পায়। এতে ঢাকাস্থ ইতালীয় দূতাবাসে ভিসা আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে যায়। মুলতবি থাকা ওয়ার্ক পারমিট দ্রুত নিষ্পত্তিতে উভয় পক্ষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি এ বিষয়ে তাদের সরকারের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
ইতালীয় দূতাবাসের তথ্যমতে, ২০২৪ সালে ‘ল’ ডিক্রি নং-১৪৫’ জারি করে ২২ অক্টোবর ২০২৪-এর আগে ইস্যু করা সব ওয়ার্ক পারমিট স্থগিত করা হয়। নতুন আইনে প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পরই ভিসা অনুমোদন বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, যা সময়সাপেক্ষ। এর মধ্যেই প্রায় ৪০ হাজার মুলতবি আবেদনের মধ্যে ৮ হাজার নিষ্পত্তি হয়েছে এবং আরও ২০ হাজার আবেদন যাচাই-বাছাই শুরু হবে।
২০২৪ সালের ২২ অক্টোবরের পর ইস্যুকৃত ওয়ার্ক পারমিটে কোনো স্থগিতাদেশ নেই। ফলে ২০২৫ সালের ফ্লুসি ডিক্রির আওতায় কয়েকশ বাংলাদেশি ইতোমধ্যে ভিসা পেয়েছেন এবং আগামী মাসগুলোতে আরও অনেকে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ঢাকাস্থ ইতালীয় দূতাবাস ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত করতে জনবল বৃদ্ধি করেছে। তবে জাল ওয়ার্ক পারমিট ও নকল নথিপত্র জমা পড়ায় যাচাই-বাছাই দীর্ঘ হচ্ছে এবং ইতালিতে এ নিয়ে একাধিক ফৌজদারি তদন্ত চলছে।
সরকারি ফি ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ অসাধু ব্যক্তিদের দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে মন্ত্রণালয় জানায়, এতে ভিসা বাতিল ও আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে। এছাড়া, এ ধরনের দুর্নীতি সঠিক আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও বিলম্ব ঘটাচ্ছে।
গত ৬ মে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে অভিবাসনসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা বৈধ উপায়ে দক্ষ কর্মী প্রেরণ ও অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় ভিসাপ্রত্যাশীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে নেতিবাচক প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছে, যাতে ভবিষ্যতে ইতালিতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।