
যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেক্সান্দ্রে ডি মোরায়েস, তার সহকর্মী বিচারপতি ও তাঁদের নিকটাত্মীয়দের ভিসা বাতিল করেছে। সাবেক ব্রাজিলীয় প্রেসিডেন্ট জইর বোলসোনারোর বিরুদ্ধে চলমান রাজনৈতিক নিপীড়নের প্রতিক্রিয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) গভীর রাতে এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে রুবিও লেখেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর প্রশাসন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনে জড়িত বিদেশি নাগরিকদের জবাবদিহির আওতায় আনবে। তিনি বলেন, বিচারপতি মোরায়েস এমন এক সেন্সরশিপ কাঠামো দাঁড় করিয়েছেন যা শুধু ব্রাজিল নয়, আমেরিকানদেরও মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করছে। এ কারণেই ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
ঘটনাটি এমন সময় ঘটল, যখন ব্রাজিলের আদালত সাবেক প্রেসিডেন্ট বোলসোনারোর বিরুদ্ধে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। সাম্প্রতিক এক রায়ে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশে বিদেশি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এমনকি পুলিশ তার বাড়িতে হানা দিয়ে পায়ে নজরদারি ডিভাইসও পরিয়ে দেয়।
এর আগে ব্রাজিলের নির্বাচন কমিশন ২০২২ সালের নির্বাচনের ফলাফল বাতিলের চেষ্টা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বোলসোনারোকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সব ধরনের নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ করে।
রয়টার্সকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ৭০ বছর বয়সী সাবেক প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমি চরম অপমানিত বোধ করছি। আমি চার বছর দেশের প্রেসিডেন্ট ছিলাম।”
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বোলসোনারোর বিচার বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের সব পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ঘটনার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।