
রাজধানী ঢাকার যানজট কমাতে নির্দিষ্ট করিডোরে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর ‘কনজেশন চার্জ’ বা যানজট শুল্ক চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। উন্নত গণপরিবহন সুবিধা থাকা এলাকায় প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও ট্রাক চলাচলের ক্ষেত্রে এ শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিকল্প হিসেবে শক্তিশালী গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে এ উদ্যোগ থেকে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যস্ত সময়ে সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ কমাতে কনজেশন চার্জ কার্যকর রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, সুইডেন ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে নির্দিষ্ট সড়কে এ ব্যবস্থা চালু আছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই ঢাকায়ও এ ধরনের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব এলাকায় মেট্রোরেল, বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) ও উন্নত বাসসেবা রয়েছে, সেসব করিডোরে ব্যক্তিগত যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট শুল্ক নির্ধারণ করা হবে। তবে শুল্কের পরিমাণ বা কোন কোন করিডোরে এটি কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, আগে জনগণকে পর্যাপ্ত বিকল্প গণপরিবহন নিশ্চিত করতে হবে। মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন ধরনের গণপরিবহনের সক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া কনজেশন চার্জ কার্যকর হবে না। এছাড়া ট্রাকের ওপর শুল্ক আরোপের বিষয়টি তিনি যৌক্তিক মনে করেন না।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান বলেন, ঢাকা ও আশপাশের এলাকা যানজটমুক্ত করতে ২০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এমআরটি-১ থেকে এমআরটি-৬ পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের পর পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো কিছু করিডোরে ডিজিটাল কনজেশন চার্জ চালু করা হবে। তবে কোন করিডোরে কত টাকা শুল্ক নেওয়া হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
ডিটিসিএর আশা, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে যানজট নিয়ন্ত্রণে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।