
চীনে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়াতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বেইজিং। সম্প্রতি ৭৪টি দেশের নাগরিকদের জন্য ৩০ দিনের ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার চালু করেছে দেশটি। আগামী ১৬ জুলাই আজারবাইজান এই তালিকায় যুক্ত হলে দেশসংখ্যা দাঁড়াবে ৭৫টিতে। চীনের জাতীয় অভিবাসন প্রশাসনের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে এখন পর্যন্ত ২ কোটিরও বেশি পর্যটক ভিসা ছাড়াই দেশটিতে প্রবেশ করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।
চীনের এ উদ্যোগের পেছনে রয়েছে পর্যটন শিল্প পুনরুজ্জীবন, অর্থনৈতিক প্রবাহ বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক মজবুত করার লক্ষ্য। ইউরোপ, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নাগরিকরা এখন চীনে ঢুকে টানা এক মাস ভিসা ছাড়াই অবস্থান করতে পারছেন।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও মালয়েশিয়াকে এই সুবিধা দেওয়া হয়। পরে এই তালিকায় যুক্ত হয় ইউরোপের প্রায় সব দেশ। গত মাসে লাতিন আমেরিকার পাঁচটি দেশ, উজবেকিস্তান এবং মধ্যপ্রাচ্যের আরও চারটি দেশও সুবিধা পায়। যদিও তালিকাভুক্ত দেশগুলোর দুই-তৃতীয়াংশের জন্য এই সুবিধা এখনও পরীক্ষামূলকভাবে এক বছরের জন্য প্রযোজ্য।
বিদেশি পর্যটকদের অভিজ্ঞতা বলছে, নতুন নীতির ফলে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা অনেক সহজ হয়েছে। যেমন, অস্ট্রিয়ায় বসবাসকারী জর্জিয়ার নাগরিক জর্জি শাভাদজে বলেন, “ভিসার ঝামেলা এড়িয়ে সরাসরি চীন ভ্রমণ করতে পারা সত্যিই দারুণ সুবিধা।”
চীনা পর্যটন খাতও ধীরে ধীরে চাঙা হচ্ছে। ‘ওয়াইল্ডচায়না’ নামের বিলাসবহুল ট্যুর অপারেটরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জেনি ঝাও জানান, নতুন ভিসা নীতির ফলে তাদের ব্যবসা মহামারির আগের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সবচেয়ে বড় বাজার হলেও ইউরোপীয় পর্যটকের হারও বেড়ে ৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে পৌঁছেছে।
অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ‘ট্রিপ ডটকম’ জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে চীনগামী বিমান ও হোটেল বুকিং দ্বিগুণ হয়েছে। বুকিংকারীদের ৭৫ শতাংশই ভিসা-মুক্ত সুবিধা পাওয়া দেশগুলোর নাগরিক।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সীমাবদ্ধতা এখনো রয়ে গেছে। আফ্রিকার কোনো বড় দেশ এখনও এই সুবিধার আওতায় আসেনি। এছাড়া যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোও তালিকাভুক্ত নয়। চীনের সঙ্গে সুইডেনের টানাপড়েনের পেছনে লেখক গুই মিনহাইকে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনা একটি বড় কারণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
তবে পর্যটন ব্যবসায়ীরা আশাবাদী, গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে বিদেশি পর্যটকের ঢল নামবে চীনের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গন্তব্যে। ইংরেজিভাষী গাইড গাও জুন জানান, “চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছি, তাই নিজেই নতুন গাইড তৈরির প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।”
চীন স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিশ্ব দরবারে নিজেদের ‘খোলা ও অতিথিপরায়ণ’ দেশ হিসেবে তুলে ধরতেই তাদের এই কৌশল, যার সুফল ধীরে ধীরে আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের।