হিমালয় সংলগ্ন হওয়ায় দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে কনকনে হিমেল বাতাসে হাড় কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে। তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলার জনজীবন, চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ, শিশু ও বৃদ্ধরা।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। যা চলতি শীত মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ এবং বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার। এর আগের দিন বুধবার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সকাল থেকে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঘন কুয়াশায় ঢেকে আছে চারপাশ। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে মানুষ ও যানবাহনের চলাচল ছিল কম। অনেক যানবাহনকে কুয়াশার কারণে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে কাজ হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। যাত্রীবাহী বাসচালক মোতালেব হোসেন বলেন, “ঘন কুয়াশার কারণে সকালে ও রাতে গাড়ি চালাতে খুব সমস্যায় পড়তে হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের রাস্তায় নামতে হচ্ছে।”
পাথর শ্রমিক রেনু বেগম বলেন, “আমি প্রতিদিন সকাল ৬টায় কাজের উদ্দেশ্যে বের হই। কিন্তু কুয়াশা আর শীতের কারণে সময়মতো কাজে যেতে পারছি না। এতে অনেক কষ্টে পড়তে হচ্ছে।”
আরেক পাথর শ্রমিক মিজানুর রহমান বলেন, “গরম কাপড়ের অভাবে খুব কষ্টে দিন কাটছে। সরকার যদি আমাদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে দুর্ভোগ কিছুটা কমবে।”
এদিকে তীব্র শীত ও কুয়াশার প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। প্রতিদিনই সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা।
তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, হিমালয়ের নিকটবর্তী হওয়ায় পঞ্চগড় অঞ্চলে শীতের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি থাকে। এই সময়ে তাপমাত্রা আরও নিচে নামার সম্ভাবনা রয়েছে।


