ঢাকাসোমবার , ১৭ নভেম্বর ২০২৫
  • অন্যান্য

গ্রিন বিল্ডিং বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা চান রিজওয়ানা হাসান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নভেম্বর ১৭, ২০২৫ ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ । ৯৪ জন

দেশের সকল সরকারি ভবনকে গ্রিন বিল্ডিং হিসেবে নির্মাণের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরকে এক মাসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রিন বিল্ডিং ম্যানুয়াল তৈরির নির্দেশ দেন। তার বক্তব্যে তিনি বলেন, বাধ্যতামূলক নীতি না থাকলে পানি সাশ্রয়, প্রাকৃতিক আলোর কার্যকর ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব স্থাপত্য শৈলী বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।

রবিবার (১৬ নভেম্বর) রাজধানীর গণপূর্ত ভবনে ‘এনভায়রনমেন্ট ম্যানেজমেন্ট, গ্রিন প্রকিউরমেন্ট এবং গ্রিন বিল্ডিং’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের নির্মাণশিল্প আধুনিকায়নে সরকারি নীতিতে পরিবর্তন আনা জরুরি। লেক ও জলাশয়গুলো ড্রেনেজ ব্যবস্থার অংশ নয়, বরং মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য উপাদান—এগুলোর ওপর বাণিজ্যিক উন্নয়নের নামে হস্তক্ষেপ করা যাবে না।

ইটভাটা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ধানিজমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটার ধোঁয়া ও আগুন দেশের সবুজ পরিবেশের জন্য হুমকি। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যক ইটভাটা ভেঙে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন, তবে শুধুমাত্র আইন প্রয়োগে টেকসই সমাধান হবে না। ইটের বিকল্প হিসেবে ব্লক ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা আরোপের ওপর তিনি জোর দেন এবং রাজউককে নতুন ভবন নির্মাণে নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্লক ব্যবহারের নির্দেশনা দিতে আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান জানান, সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, আদালত ও এতিমখানার ভবনগুলোর অবস্থা সন্তোষজনক নয়। এগুলোকে পরিবেশবান্ধব, আধুনিক এবং টেকসই কাঠামোয় পুনর্গঠন করা জরুরি। তিনি শহরের জলাশয় পুনরুদ্ধার এবং সকল সরকারি ভবনকে পরিবেশবান্ধবভাবে পুনর্নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম, প্রধান স্থপতি মো. আসিফুর রহমান ভূঁইয়া এবং নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক মাহমুদ আলী। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী। আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন অভিজ্ঞ প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞরা।

অনুষ্ঠানে “কনস্ট্রাকশন সাইট এনভায়রনমেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান, ধানমন্ডি লেক ওয়াটার কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট, পিপিআর–২০২৫, গ্রিন প্রকিউরমেন্ট এবং গ্রিন বিল্ডিং” বিষয়ে বিস্তারিত পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করা হয়।