
উত্তর হিমালয় থেকে বয়ে আসা হিমশীতল বাতাসে বৃষ্টির মতো ঝরছে ঘন কুয়াশা। এর ফলে পঞ্চগড়ে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। কয়েক দিন ধরেই এ জেলায় সূর্যের দেখা মিলছে না, আর তাপমাত্রা ১১ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে ওঠানামা করায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৯ শতাংশ এবং বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১১ থেকে ১২ কিলোমিটার। এর আগের দিন জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় মাত্র ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে সারাদিনই সূর্যের দেখা মেলেনি।
জানা গেছে, পঞ্চগড়সহ আশপাশের জেলাগুলোতে কয়েক দিন ধরে হিমালয় থেকে আসা হিমেল বাতাসের প্রভাবে তীব্র শীত বিরাজ করছে। বিকেল থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত টিপটিপ করে কুয়াশা ঝরছে-যেন বৃষ্টি নামছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে।
প্রচণ্ড শীতের কারণে সন্ধ্যার পর জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। কাজে যেতে না পারায় দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। শীতবস্ত্রের অভাবে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে উঠেছে।
শীত নিবারণের জন্য নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষজন জেলার বিভিন্ন হকার্স মার্কেটে গরম কাপড় কিনতে ভিড় করছেন। তবে কয়েক দিন ধরেই হঠাৎ শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় এসব মানুষকে কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে। দিনের বেলায় সামান্য রোদের দেখা মিললেও শীতের প্রকোপ কমছে না। বরং শেষ বিকেলে শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে যাচ্ছে।
এদিকে, এলাকায় শীতের তীব্রতা বাড়লেও সরকারি উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অপরদিকে, তীব্র শীতের কারণে জেলার হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে শীতজনিত রোগীর চাপ বেড়েছে। প্রতিদিনই শিশু ও বৃদ্ধ রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন। বেশি অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, “পঞ্চগড় জেলা হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাসের কারণে এখানে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। বুধবার সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সামনের দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।”