
পরোক্ষ ধূমপান প্রতিরোধে নৌপরিবহন ও টার্মিনালের অভ্যন্তরে তামাকজাত পণ্য বিক্রি ও ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, প্রত্যক্ষ ধূমপানের মতই পরোক্ষ ধূমপানের প্রভাব বিশ্বব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। ঢাকা সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল দিয়ে অসংখ্য লোক প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকেন এবং যাত্রীদের একটা বিরাট অংশ লঞ্চ এবং টার্মিনালের অভ্যন্তরে ধূমপান করে থাকেন যার প্রভাব অধূমপায়ীদের উপর পড়ে।
নৌপরিবহণে ভ্রমণ অপেক্ষাকৃত সহজ ও আরামদায়ক হওয়ায় বাংলাদেশের মানুষের একটা বড় অংশ প্রতিদিন নৌ-পথে যাতায়াত করে থাকে। নৌ-পথে প্রতিদিন প্রায় ৩৫,০০০ যাত্রী যাতায়াত করে। ডাস্ কর্তৃক সমীক্ষায় দেখা যায় যাত্রী, শ্রমিক এবং লঞ্চ-ফেরির শতকরা ২৫ ভাগ লোকই তাদের পরিবহণ এবং টার্মিনালে ধূমপান করে থাকেন যার প্রভাব অবশিষ্ট ৭৫ ভাগ অধূমপায়ীদের উপরে পড়ে থাকে।
গতকাল (২৬ মে ২০২৫) সোমবার ‘তামাক কোম্পানির কূটকৌশল উম্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি’ – শীর্ষক মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন। ডেভলপমেন্ট এ্যাকটিভিটিস অফ সোসাইটি-ডাস্, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট-বাটা এবং প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠনের সম্মিলিত উদ্যোগে ঢাকা সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট-বাটা’র ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী হেলাল আহমেদ এর সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ডাস্ এর টীম লীড আমিনুল ইসলাম বকুল, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মোয়াজ্জেম হোসেন টিপু, এ্যাসোসিয়েট প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর রবিউল আলম লিটন, এ্যাকাউন্টস কাম এডমিন কো-অর্ডিনেটর রুপালী খাতুন, প্রোগ্রাম সহযোগী সেলিম হোসেন প্রমূখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নৌপরিবহনে তামাক নিয়ন্ত্রণে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধিদপ্তর বিআইডব্লিউটিএ এবং বিআইডব্লিউটিসি’র সাথে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছি। কাজের সুবাদে তারা কয়েকটি আদেশ জারি করলেও দুর্বল মনিটরিং ব্যবস্থা সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। তন্মধ্যে- মোবাইল এ্যাপস এর ব্যবহার, হটলাইন নাম্বার প্রদান, প্রত্যেকটি লঞ্চ ও ফেরীতে আলাদাভাবে অভিযোগ বাক্স স্থাপন ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এগুলির মাধ্যমে প্রাপ্ত অভিযোগগুলি সঠিকভাবে তদারকি করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে নৌপরিবহনে ধূমপান অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে। এছাড়া তামাকের বিরুদ্ধে নিয়মিত প্রচার প্রচারণা, মাইকিং, অপরাধীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ইত্যাদিও বহাল রাখতে হবে।
কর্মসূচিতে অন্যন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএ প্রতিনিধি, নৌপুলিশ প্রতিনিধি, ডিএমপি প্রতিনিধি, আনসার প্রতিনিধি সহ সদরঘাট ভিজিলেন্স টীমের সদস্যবৃন্দ এবং প্রত্যাশা ও ডাস্ এর অন্যন্য কর্মীবৃন্দ।