
স্থানীয় সরকার বিভাগ ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর যৌথ উদ্যোগে দেশের ১২টি জেলার ১০ হাজারের বেশি হতদরিদ্র ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ নারীকে জীবিকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাতীয় কর্মশালায় ‘স্বপ্ন-২’ প্রকল্পের আওতায় অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও জীবিকা সংক্রান্ত কার্যক্রমের ফলাফল তুলে ধরা হয়।
ইউএনডিপির কারিগরি সহায়তা এবং সুইডেন ও মারিকো সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে স্থানীয় সরকার বিভাগ কাজ করেছে। প্রকল্পের আওতায় দেশের ৩২টি উপজেলার ২৮৩টি ইউনিয়ন পরিষদের ১০ হাজার ১৮৮টি অতিদরিদ্র ও নারীপ্রধান পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উপকারভোগীদের মধ্যে রয়েছেন বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, স্বামী থেকে বিচ্ছিন্ন এবং শারীরিক বা মানসিকভাবে অক্ষম স্বামীর ওপর নির্ভরশীল নারীরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান বলেন, নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আর্থিক সেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং টেকসই জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি সংস্থা ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, যার প্রমাণ ‘স্বপ্ন-২’ প্রকল্পের সাফল্য।
স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব ও প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এ প্রকল্পের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে অতিদরিদ্র ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ নারীদের জন্য কার্যকর নীতি ও নতুন কর্মসূচি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কর্মশালায় ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক স্বাগত বক্তব্য দেন। এছাড়া ইনোভেশন কনসালটিংয়ের পোর্টফোলিও উপদেষ্টা তাসমিয়াহ তাবাসসুম রহমান প্রকল্পের মূল্যায়ন ফলাফল উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জন্য টেকসই অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণ এবং দারিদ্র্য বিমোচনে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।