
হুয়াওয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এ ক্যাম্পাস রিক্রুটমেন্ট কর্মসূচির আয়োজন করেছে। দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী গ্র্যাজুয়েটদের হুয়াওয়েতে সরাসরি ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ দিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করেন। এমসিকিউভিত্তিক পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকার শেষে নির্বাচিত প্রার্থীদেরকে হুয়াওয়েতে চাকরির সুযোগ দেওয়া হবে।
হুয়াওয়ের পক্ষ থেকে দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র মার্কেটিং ম্যানেজার কৌশিক আহমেদ রেজা এবং এইচআর ম্যানেজার ইফতেখার রহমান। বুয়েটের অনুষ্ঠানে হুয়াওয়ের ডেলিভারি অ্যান্ড সার্ভিস (ডিঅ্যান্ডএস) ভাইস প্রেসিডেন্ট শিয়েরেন উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, চুয়েটের অনুষ্ঠানে অংশ নেন হুয়াওয়ের এইচআর ডেপুটি ডিরেক্টর মো. ফারা নেওয়াজ।
ক্যাম্পাস রিক্রুটমেন্ট সম্পর্কে হুয়াওয়ে সাউথ এশিয়া এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাবেন বলেন, “আমরা নিয়মিতভাবে স্থানীয় জনবল নিয়োগ করে থাকি, যার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশই তরুণ গ্র্যাজুয়েট। আমরা ক্যাম্পাস রিক্রুটমেন্ট কর্মসূচির মাধ্যমে মেধাবী গ্র্যাজুয়েটদের হুয়াওয়ের আন্তর্জাতিক মানের কর্মপরিবেশে তাঁদের জ্ঞান প্রয়োগ ও শিল্প খাতের উপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দিতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, চলমান ক্যাম্পাস রিক্রুটমেন্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা এমন দক্ষ জনবল পাবো, যারা বাংলাদেশের আইসিটি খাতের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”
বুয়েটের অধ্যাপক এ বি এম আলিম আল ইসলাম বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে হুয়াওয়ের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা এবং প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। এ ধরনের উদ্যোগ একাডেমিক শিক্ষা ও শিল্পখাতের চাহিদার মধ্যে ব্যবধান কমাতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মপরিবেশ, শিল্পখাতের চ্যালেঞ্জ এবং আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পায়। আমরা আশা করি, এ ধরনের সহযোগিতা আরও বেশি শিক্ষার্থীকে দক্ষ হতে অনুপ্রাণিত করার পাশাপাশি দেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে অবদান রাখতে উৎসাহিত করবে।”
চুয়েটের অধ্যাপক মেহেদী হাসান চৌধুরী বলেন, “এই ক্যাম্পাস রিক্রুটমেন্ট কর্মসূচি আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ নতুন গ্র্যাজুয়েটদের জন্য কর্মজীবনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করার পাশাপাশি তাঁদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ায় ও শিল্পখাতের জন্য উপযোগী হতে উৎসাহিত করে। তরুণদের মেধা বিকাশ এবং বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে সহায়তা করার ক্ষেত্রে হুয়াওয়ের এই প্রতিশ্রুতি সত্যিই প্রশংসনীয়।”
বাংলাদেশে হুয়াওয়ের অধিকাংশ কর্মীই স্থানীয়ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত। তাঁরা শুধু বাংলাদেশে হুয়াওয়ের কার্যক্রমেই নয়, বরং প্রতিষ্ঠানটির আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।