
টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের বাদাম ও সবজিখেত তলিয়ে গেছে। ক্ষতি কমাতে পানির নিচ থেকে আধাপাকা বাদাম তুলে এনে সড়কে শুকাচ্ছেন কৃষকেরা। এমন পরিস্থিতিতে কৃষি বিভাগের সবজিবীজ বিতরণ কর্মসূচি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বন্যাকবলিত এলাকার কৃষকরা। তাদের দাবি, এই মুহূর্তে বীজ নয়; প্রয়োজন বন্যার পূর্বাভাস, নিরাপদ আশ্রয় ও ত্রাণ সহায়তা।
রাজারহাট উপজেলার চর খিতাবখাঁ গ্রামের কৃষক এরশাদুল হক (৬০) জানান, তিস্তার ভাঙনে নিজের জমি হারিয়ে অন্যের এক একর জমি ইজারা নিয়ে বাদাম চাষ করেছিলেন। কিন্তু বন্যার পানিতে পুরো ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে আধাপাকা বাদাম তুলে আনতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ফসল ভালো হয়েছিল। কিন্তু বন্যায় সব শেষ হয়ে গেল। কাঁচা-আধাপাকা বাদাম পানির নিচ থেকে তুলে আনছি। রোদ না পেলে বেশিরভাগই নষ্ট হয়ে যাবে।’
কৃষকদের অভিযোগ, পানি বাড়ার পর উপজেলা প্রশাসন বা কৃষি বিভাগের কেউ তাদের খোঁজ নেয়নি। এর মধ্যেই সোমবার বিকেলে তিস্তাপাড়ে কৃষি বিভাগের উদ্যোগে সবজিবীজ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. সাইফুন্নাহার সাথী উপস্থিত ছিলেন।
খিতাবখাঁ-বুড়িরহাট এলাকার বাসিন্দা আবদুর রশীদ বলেন, ‘তিস্তার পানি দ্রুত বাড়ছে। আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। এখন আমাদের দরকার পানি কত বাড়বে, কোথায় আশ্রয় পাব, ত্রাণ কখন আসবে-এসব তথ্য। এ সময় বীজ বিতরণ কোনো কাজে আসবে না।’
এ বিষয়ে ইউএনও তানজিলা তাসনিম বলেন, সবজিবীজ বিতরণ কৃষি বিভাগের কর্মসূচি। তিনি শুধু অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. সাইফুন্নাহার সাথী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি পরামর্শ দেন, বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া বাদাম বেশি সময় পানির নিচে রাখা যাবে না। দ্রুত তুলে ডাল থেকে আলাদা করে রোদে বা বাতাস চলাচল করে এমন শুকনো স্থানে ছড়িয়ে শুকাতে হবে, যাতে পচন ও অঙ্কুরোদ্গমের ঝুঁকি কমে।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, উজানের ঢল কমতে শুরু করায় কুড়িগ্রামের বেশিরভাগ নদ-নদীর পানি কমছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও দুধকুমার নদের পানি এখনও বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।