
ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৭৯১ জনে পৌঁছেছে। এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সোমবার (২৯ জুন) রাতে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর একটি লা গুয়াইরা বন্দরে স্বজন ও প্রতিবেশীদের খুঁজে পেতে স্থানীয় বাসিন্দারা শাবল, হাতুড়ি ও কোদাল নিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। তবে এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
সোমবার ভোরে দেশটিতে ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি পরাঘাত অনুভূত হলেও এতে নতুন করে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এ ঘটনাকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছাতে শুরু করলেও ভূমিকম্পের ১০০ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ায় জীবিতদের উদ্ধারের আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। তবে সোমবার ভোরে ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকা ২১ বছর বয়সী এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার উত্তরাঞ্চলের লা গুয়াইরা রাজ্যে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে প্রায় ৮০০টি ভবন ধসে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও উদ্ধার অভিযানে তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ খুব কম দেখা গেছে। অনেক এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবীরাই উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছেন।
অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, বর্তমানে ২৫ হাজারের বেশি জরুরি কর্মী, পুলিশ ও সেনাসদস্য ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার ও সহায়তায় কাজ করছেন। তিনি বলেন, “এখন প্রতিটি জীবন বাঁচানোই আমাদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।”