
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, খাদ্যপণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং শিল্প খাতে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে কৃষিপণ্য, সার, ভোজ্যতেল, ডাল, ছোলা, চিনি, ইউরিয়া ও পাটসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সোমবার (২৯ জুন) শিল্প মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ট্রেডিং কর্পোরেশন অব পাকিস্তান (টিসিপি)-এর চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুন নাসের খান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দুই দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো গেলে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ, শিল্পায়ন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
টিসিপির চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকী বলেন, পাকিস্তান বাংলাদেশে চাল, ডাল, ছোলা, সার ও ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য রপ্তানিতে আগ্রহী। একই সঙ্গে পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশের উচ্চমানের পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
তিনি জানান, সরকারি পর্যায়ে খাদ্যপণ্য বাণিজ্য সহজ করতে বাংলাদেশের টিসিবি ও পাকিস্তানের টিসিপির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই এ চুক্তি সই হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদল জানায়, যেসব পণ্য সরাসরি রপ্তানি করা সম্ভব নয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা অনুসরণ করা হবে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ-পাকিস্তান যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রম দ্রুত সক্রিয় করা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বিনিময় এবং কৃষি ও শিল্প খাতে সহযোগিতা আরও বাড়াতে উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে বৈঠকে ঐকমত্য হয়।