
ফিলিপাইন সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘নান্দো’ ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করে আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। দেশটির আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এটি ইতোমধ্যে টাইফুনে রূপ নিয়েছে এবং আগামী সোমবারের মধ্যে সুপার টাইফুনে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরকারি বার্তা সংস্থা ফিলিপাইন নিউজ এজেন্সি শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) জানায়, ঘূর্ণিঝড়টির বর্তমান অবস্থান ফিলিপাইনের অরোরার ক্যাসিগুরান এলাকা থেকে প্রায় ৭৭৫ কিলোমিটার পূর্বে। সেখানে এটি ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে বাতাস সৃষ্টি করছে। দমকা হাওয়া উঠছে সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত। টাইফুনটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার গতিতে অগ্রসর হচ্ছে।
ঝড়টি শক্তি বাড়াতে থাকায় ফিলিপাইনের অভ্যন্তরীণ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় (DILG) জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় ও নিচু অঞ্চল থেকে লোকজনকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। ভূমিধসের আশঙ্কায় পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদেরও সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের নির্দেশে এ পদক্ষেপ কার্যকর করা হচ্ছে, যাতে সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়।
টাইফুনের কারণে চারটি প্রদেশ-বাতাঁনেস, কাগায়ান, ইলোকোস নর্তে ও ইলোকোস সুরের উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝড়টি বাতাঁনেস–বাবুয়ান দ্বীপপুঞ্জের পাশ দিয়ে অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্রে খাবার, বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুদ রাখার পাশাপাশি উদ্ধারকর্মী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ডিআইএলজি জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তাই ঝুঁকি হ্রাস ও মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার জন্য এখনই সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।