
ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ‘কালমেইগি’ ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে। দেশটির সেবু প্রদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১০০ জনের বেশি নিহত, বহু মানুষ আহত এবং অন্তত ২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
বুধবার (৫ নভেম্বর) ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব স্পষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ছে। এর আগের দিন রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতে সেবুর কেন্দ্রীয় শহর ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। বন্যার পানিতে ভেসে যায় ঘরবাড়ি, গাড়ি, এমনকি বিশাল জাহাজের কনটেইনারও।
সেবু প্রদেশের সরকারি মুখপাত্র রোন রামোস জানিয়েছেন, প্রাদেশিক রাজধানীর মেট্রো এলাকার অংশ লিলোয়ান শহরের বন্যাকবলিত এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে প্রদেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা স্টিফেন পোলিনার জানান, টানা বৃষ্টিপাতে নেগ্রোস দ্বীপে কমপক্ষে ১২ জন নিহত এবং আরও ১২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ক্যানলাওন শহরে ঘরবাড়ি ভূমিধসে চাপা পড়ে যায়। তিনি জানান, গত বছর কানলাওন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে এর ওপর জমে থাকা আগ্নেয় পদার্থ ভারী বৃষ্টির সময় নিচে নেমে এসে পাশের গ্রামগুলোতে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়ে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়, এতে ছয়জন ক্রু সদস্য নিহত হন।
সেবুর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দা রেনাল্ডো ভার্গারা (৫৩) বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, “ভোর ৪টা বা ৫টার দিকে বৃষ্টির পানি এত তীব্র হয়ে ওঠে যে বাইরে যাওয়া সম্ভব ছিল না। এমন কিছু আগে কখনো দেখিনি।” বন্যার পানিতে তার দোকানের সবকিছুই ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
আরেক বাসিন্দা রেজি ম্যালোর্কা (২৬) বলেন, “আমার বাড়ি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেরামত করতে অনেক সময় লাগবে, কারণ হাতে কোনো টাকা নেই।”
দেশটির আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ চারমাগনে ভারিলা জানান, ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার ২৪ ঘণ্টা আগে সেবু সিটির আশপাশে ১৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়, যা শহরের মাসিক গড়ের (১৩১ মিমি) চেয়ে অনেক বেশি।
ফিলিপাইন সরকার জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রায় ৮ লাখ মানুষকে ঘূর্ণিঝড়ের আগে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, যার ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, ফিলিপাইন প্রতি বছর গড়ে ২০টি ঝড় ও ঘূর্ণিঝড়ের মুখোমুখি হয়। চলতি বছর ‘কালমেইগি’ এসেছে সুপার টাইফুন রাগাসা (নানডো) এবং টাইফুন বুয়ালই (ওপং)-এর পর। এর আগে গত মাসে কেন্দ্রীয় ফিলিপাইনে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়, যেখানে সেবু প্রদেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
সূত্র: এএফপি