ঢাকামঙ্গলবার , ১১ অগাস্ট ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. মতামত

পুলিশকে জরিমানা করার ক্ষমতা দিলে গণপরিবহনে ধূমপান বন্ধ হবে

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ অগাস্ট ২০২৬, ৩:০১ বিকাল

Link Copied!

(আইন আছে, নিষেধাজ্ঞা আছে, কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও আছেন; কিন্তু কার্যকর enforcement-এর জন্য ক্ষমতার কাঠামো আরও স্পষ্ট করা প্রয়োজন)

গণপরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ। আইন লঙ্ঘনের জন্য জরিমানার বিধানও রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বাস, মিনিবাসসহ বিভিন্ন গণপরিবহনে ধূমপান বন্ধে নিয়মিত ও কার্যকর নজরদারি কতটা হচ্ছে? বিশেষ করে চলন্ত গণপরিবহনে ধূমপানের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে কে ব্যবস্থা নেবেন, কে আইন লঙ্ঘনের প্রাথমিক প্রমাণ সংগ্রহ করবেন এবং কে জরিমানা আরোপ করবেন? এসব বিষয়ে মাঠপর্যায়ে একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর enforcement কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে।

২০২৬ সালে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ডের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। ১০ এপ্রিল ২০২৬ ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ গেজেটভুক্ত হয়। অর্থাৎ আইন প্রণয়নের দিক থেকে রাষ্ট্র ধূমপানমুক্ত গণপরিবহনের বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো- এই আইনের প্রয়োগ মাঠপর্যায়ে কীভাবে আরও দ্রুত, দৃশ্যমান ও কার্যকর করা যায়?

আইনে কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আছেন, কিন্তু ক্ষমতার প্রকৃতি স্পষ্ট করা জরুরি

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয় রয়েছে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে ‘কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা’-এর ধারণা রয়েছে। আইনটির ধারা ৯ অনুযায়ী কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে প্রবেশ করে পরিদর্শন করতে পারেন এবং আইন লঙ্ঘনকারী ব্যক্তিকে সেখান থেকে বহিষ্কার করতে পারেন।

২০১৫ সালের ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা’ও এ enforcement কাঠামোকে আরও বিস্তৃত করেছে। বিধিমালায় নির্দিষ্ট পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন কর্মকর্তাকে কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সরকারি গেজেট অনুযায়ী বিধিমালাটি ১৯ মার্চ ২০১৫ জারি হয়।

এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য বুঝতে হবে- কোনো কর্মকর্তা ‘কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা’ হওয়া এবং সেই কর্মকর্তার ঘটনাস্থলে সরাসরি অর্থদণ্ড আরোপ করার ক্ষমতা থাকা একই বিষয় নয়। বর্তমান কাঠামোতে পুলিশ কর্মকর্তা আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করা, পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারেন; কিন্তু সরাসরি ঘটনাস্থলে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে অর্থদণ্ড আরোপের ক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই পদমর্যাদা থেকে সৃষ্টি হয় না। বাস্তবে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের অপরাধে অর্থদণ্ড আরোপের ক্ষেত্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার প্রচলিত চিত্রই বেশি দেখা যায়।

ফলে বর্তমান ব্যবস্থার মূল দুর্বলতা শুধু ‘পুলিশের ক্ষমতা নেই’- এভাবে দেখলে বিষয়টি অসম্পূর্ণ হবে। বরং মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত: যে পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে অপরাধটি প্রত্যক্ষ করছেন বা তাৎক্ষণিকভাবে আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করতে পারছেন, তার হাতে কি আইনসম্মতভাবে সীমিত ও নির্দিষ্ট অর্থদণ্ড আরোপের ক্ষমতা দেওয়া যায়?

চলন্ত গণপরিবহনে এই প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ

গণপরিবহনে ধূমপানের ঘটনা অন্য অনেক ধরনের অপরাধের তুলনায় ভিন্ন। একজন যাত্রী বা বাসকর্মী চলন্ত বাসে ধূমপান করছেন- এমন ঘটনা কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যেতে পারে। সেই সময় কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সব ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে।

অন্যদিকে সড়কে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যরা নিয়মিতভাবে গণপরিবহন, বাসস্ট্যান্ড, সড়ক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে উপস্থিত থাকেন। ফলে তাদেরকে শুধু সহযোগী বাহিনী হিসেবে না দেখে, একটি আইনসম্মত ও নির্দিষ্ট enforcement framework-এর অংশ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ রয়েছে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে পুলিশকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারিক ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। বরং বিষয়টি হতে পারে আরও সীমিত ও সুনির্দিষ্ট- আইনে নির্ধারিত অপরাধের ক্ষেত্রে, নির্ধারিত পদমর্যাদার প্রশিক্ষিত পুলিশ কর্মকর্তাকে নির্দিষ্ট শর্তে তাৎক্ষণিক অর্থদণ্ড আরোপ বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া যায় কি না, তা পরীক্ষা করা।

সড়ক পরিবহণ আইন ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন

এখানে সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮-এর সঙ্গেও একটি বাস্তবসম্মত সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে। সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৯-এ মোটরযান চলাচলের সাধারণ নির্দেশনা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ধারা ৯২-এ এর নির্দিষ্ট বিধান লঙ্ঘনের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি- সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮-এর বর্তমান ধারা ৪৯-এ সরাসরি ‘গণপরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ’ বলা নেই। গণপরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধের মূল আইনি ভিত্তি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন। ফলে সড়ক পরিবহণ আইনকে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং পরিবহন খাতে compliance ও enforcement সমন্বয়ের সহায়ক কাঠামো হিসেবে দেখা উচিত।

বিশেষ করে চালক, কন্ডাক্টর ও পরিবহনকর্মীদের দায়িত্ব, আচরণবিধি, যাত্রীসেবা এবং গণপরিবহনের পরিচালনব্যবস্থার সঙ্গে ধূমপানমুক্ত পরিবহণের বাধ্যবাধকতা আরও সুস্পষ্টভাবে যুক্ত করা যেতে পারে।

২০১৫ সালের বিধিমালার ‘কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা’ কাঠামোই হতে পারে পরিবর্তনের ভিত্তি

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- পুলিশকে সম্পূর্ণ নতুন করে তামাক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় যুক্ত করার প্রয়োজন নেই। বিদ্যমান আইন ও বিধিমালাতেই পুলিশ কর্মকর্তাকে enforcement কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার ভিত্তি রয়েছে। ২০১৫ সালের বিধিমালায় পুলিশ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি প্রমান করে যে আইনপ্রণেতারা তামাক নিয়ন্ত্রণের মাঠপর্যায়ের প্রয়োগে পুলিশের ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা ইতোমধ্যেই স্বীকার করেছেন।

কিন্তু এখানেই একটি ‘enforcement gap’ থেকে গেছে। পরিদর্শনের ক্ষমতা আছে, আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করার সুযোগ আছে, প্রয়োজনে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করার সুযোগ আছে- কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে অর্থদণ্ড আরোপের ক্ষমতা একইভাবে স্পষ্ট নয়। ফলে এখন প্রয়োজন হতে পারে এই ক্ষমতার কাঠামো পুনর্মূল্যায়ন করা।

পুলিশকে কি সরাসরি জরিমানা করার ক্ষমতা দেওয়া সম্ভব?

এটি নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; এটি একটি আইনগত ক্ষমতা অর্পণের প্রশ্ন। কারণ কোনো পুলিশ কর্মকর্তা আইন লঙ্ঘনের জন্য কাউকে অর্থদণ্ড দিতে চাইলে তার স্পষ্ট statutory authority থাকতে হবে। শুধু দাপ্তরিক আদেশ বা মৌখিক নির্দেশের মাধ্যমে এমন ক্ষমতা দেওয়া যথেষ্ট নাও হতে পারে। বিশেষ করে অর্থদণ্ড আরোপের ক্ষেত্রে কোন কর্মকর্তা কোন আইনের কোন ধারার অধীনে ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন, অপরাধ কীভাবে নথিবদ্ধ হবে, অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য কীভাবে গ্রহণ করা হবে, অর্থ কীভাবে সরকারি কোষাগারে জমা হবে এবং সেই আদেশের বিরুদ্ধে কী প্রতিকার থাকবে- এসব বিষয় আইন বা বৈধ বিধিবদ্ধ কাঠামোর মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

তাই সরকারের বিবেচনায় অন্তত তিনটি পথ থাকতে পারে।

প্রথমত, বিদ্যমান ও আগামী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিধিমালার অধীনে নির্দিষ্ট পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাকে সীমিত enforcement ক্ষমতা দেওয়ার আইনগত সম্ভাবনা পরীক্ষা করা।

দ্বিতীয়ত, প্রয়োজন হলে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বা সংশ্লিষ্ট বিধিমালায় সংশোধন এনে নির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পুলিশ কর্মকর্তাকে সরাসরি অর্থদণ্ড আরোপের ক্ষমতা দেওয়া।

তৃতীয়ত, সরাসরি জরিমানা আরোপের ক্ষমতা না দিয়ে পুলিশকে অপরাধ শনাক্তকরণ, প্রাথমিক প্রমাণ সংগ্রহ, অভিযোগ গ্রহণ ও নথিবদ্ধকরণে দায়িত্ব দিয়ে একটি দ্রুত মোবাইল কোর্ট/ম্যাজিস্ট্রেট enforcement linkage তৈরি করা- যাতে পুলিশের রিপোর্টের ভিত্তিতে দ্রুত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

চতুর্থত, সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৯-এর দ্বিতীয় অংশের ২ এর ক্ষমতাবলে আদেশ জারি করে নির্দিষ্ট বিধান লঙ্ঘনের জন্য এনে নির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পুলিশ কর্মকর্তাকে সরাসরি অর্থদণ্ড আরোপের ক্ষমতা দেওয়া যেতে পারে।

এর মধ্যে কোন মডেল সবচেয়ে কার্যকর হবে, তা আইন মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল এবং সংশ্লিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত পর্যালোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা যেতে পারে।

শুধু জরিমানার ক্ষমতা নয়, প্রয়োজন একটি স্পষ্ট SOP

পুলিশকে জরিমানার ক্ষমতা দেওয়া হলে সেটি যেন অনিয়ন্ত্রিত বা বিচ্ছিন্নভাবে প্রয়োগ না হয়, সে জন্য একটি সুস্পষ্ট Standard Operating Procedure (SOP) অপরিহার্য।

এই SOP-তে অন্তত কিছু বিষয় থাকা উচিত যেমন- কোন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন; কোন কোন অপরাধে অর্থদণ্ড আরোপ করা যাবে; অপরাধ শনাক্ত ও প্রাথমিক প্রমাণ সংরক্ষণের পদ্ধতি; যাত্রীর অভিযোগ কীভাবে গ্রহণ ও যাচাই করা হবে; অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য কীভাবে নথিবদ্ধ হবে; জরিমানার রসিদ বা ডিজিটাল চালান কীভাবে প্রদান করা হবে; আদায়কৃত অর্থ কীভাবে সরকারি কোষাগারে জমা হবে; একই ব্যক্তি বা পরিবহনের পুনরাবৃত্ত অপরাধ কীভাবে নথিবদ্ধ হবে; চালক, কন্ডাক্টর বা পরিবহন মালিকের দায় কখন সৃষ্টি হবে; কোনো কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে কী জবাবদিহি থাকবে; এবং জরিমানার আদেশের বিরুদ্ধে কী ধরনের পর্যালোচনা বা প্রতিকার পাওয়া যাবে।

অর্থাৎ ক্ষমতা দিতে হবে, কিন্তু একই সঙ্গে জবাবদিহির ব্যবস্থাও তৈরি করতে হবে।

পরিবহন মালিক ও কর্মীদেরও দায়বদ্ধ করতে হবে

গণপরিবহনকে ধূমপানমুক্ত রাখতে শুধু যাত্রীকে জরিমানা করলেই যথেষ্ট হবে না। পরিবহন মালিক, চালক, কন্ডাক্টর ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদেরও নির্দিষ্ট দায়িত্বের আওতায় আনতে হবে।

প্রতিটি বাস ও গণপরিবহনে দৃশ্যমান স্থানে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ’ সাইনেজ থাকা উচিত। চালক ও কন্ডাক্টরকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং যাত্রীদের অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা রাখতে হবে।

একই সঙ্গে পরিবহন মালিক বা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের জন্যও একটি compliance mechanism থাকা প্রয়োজন-যাতে কোনো নির্দিষ্ট পরিবহনে বারবার ধূমপানের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষের কাছেও বিষয়টি পৌঁছে দিতে পারে।

পুলিশের ভূমিকা: শাস্তিদাতা নয়, কার্যকর enforcement partner

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশের হাতে জরিমানা করার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাবকে এমনভাবে উপস্থাপন করা উচিত নয় যেন তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রয়োগের পুরো দায়িত্ব পুলিশের ওপর দেওয়া হচ্ছে। বরং পুলিশের ভূমিকা হতে পারে একটি সমন্বিত enforcement chain-এর অংশ হিসেবে।

একজন পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাটি শনাক্ত করবেন বা অভিযোগ গ্রহণ করবেন; প্রয়োজনীয় প্রমাণ নথিবদ্ধ করবেন; নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করবেন এবং নির্দিষ্ট আইনগত ক্ষমতা থাকলে অর্থদণ্ড আরোপ করবেন। অন্যদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, বিআরটিএ এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ নীতি, প্রশিক্ষণ, মনিটরিং ও compliance-এর দায়িত্ব পালন করবে। এভাবে দায়িত্ব ভাগ করা হলে আইন প্রয়োগ আরও কার্যকর হতে পারে।

আইন আছে- এখন প্রয়োজন enforcement architecture

গণপরিবহনে ধূমপান বন্ধের বিষয়টি শুধু তামাক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, যাত্রী অধিকার এবং নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবহণ ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

২০২৬ সালের সংশোধনের মাধ্যমে আইন লঙ্ঘনের অর্থদণ্ড বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু জরিমানার পরিমাণ বাড়ালেই আইন কার্যকর হয় না। প্রয়োজন এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে অপরাধ সংঘটনের সঙ্গে সঙ্গে আইন প্রয়োগের সক্ষমতাও মাঠে উপস্থিত থাকবে।

বর্তমান আইন ও ২০১৫ সালের বিধিমালায় ‘কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা’-এর ধারণা এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার ভিত্তি ইতোমধ্যেই রয়েছে। এখন তাই মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত- এই বিদ্যমান কাঠামোকে কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়।

পুলিশকে সরাসরি জরিমানা করার ক্ষমতা দেওয়া হবে কি না? এটি অবশ্যই একটি আইনগত ও নীতিগত পর্যালোচনার বিষয়। কিন্তু সেই পর্যালোচনা এখন সময়ের দাবি।

প্রয়োজনে আইন সংশোধন, বিধিমালা সংশোধন, ক্ষমতা অর্পণ বা সংশ্লিষ্ট আইনগুলোর মধ্যে সমন্বিত enforcement mechanism তৈরির মাধ্যমে নির্দিষ্ট পদমর্যাদার প্রশিক্ষিত পুলিশ কর্মকর্তাকে সীমিত ও জবাবদিহিমূলক অর্থদণ্ড আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার সম্ভাবনা পরীক্ষা করা যেতে পারে।

আর যদি সরাসরি জরিমানার ক্ষমতা দেওয়ার আইনগত কাঠামো উপযুক্ত না হয়, তাহলেও পুলিশকে এমন একটি শক্তিশালী প্রাথমিক enforcement role দেওয়া যেতে পারে, যার মাধ্যমে ঘটনাস্থলেই অপরাধ শনাক্ত, নথিবদ্ধ ও দ্রুত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে উপস্থাপনের ব্যবস্থা থাকবে।

কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শুধু ‘জরিমানা কে করবেন?’- এতটুকু নয়। মূল প্রশ্ন হলো- গণপরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ করার যে আইন রাষ্ট্র করেছে, সেই আইন ভঙ্গ হওয়ার মুহূর্তে মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো আইনসম্মত, দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা কি আমরা তৈরি করতে পেরেছি? আইন প্রণয়নের পরবর্তী ধাপ সচেতনতার সাথে সাথে কার্যকর enforcement architecture তৈরি করা।

গণপরিবহনকে সত্যিকার অর্থে ধূমপানমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল, বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি স্পষ্ট, আইনসম্মত ও বাস্তবায়নযোগ্য enforcement mechanism এখনই প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

আইন কাগজে কার্যকর হওয়ার জন্য নয়; মানুষের বাস্তব জীবনে কার্যকর হওয়ার জন্য।

লেখক: কাজী মোহাম্মদ হাসিবুল হক, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ উন্নয়ন কর্মী।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

পুলিশকে জরিমানা করার ক্ষমতা দিলে গণপরিবহনে ধূমপান বন্ধ হবে

আমিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের ভিসা পুনর্বহালের দাবি

Realme C100X with new battery backup surprises

ব্যাটারি ব্যাকআপে নতুন চমক নিয়ে রিয়েলমি সি১০০এক্স

লঘুচাপের প্রভাবে টানা কয়েক দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস

এইচ৫ বার্ড ফ্লু: ঝুঁকিপূর্ণ পাখিকে টিকা দেবে অস্ট্রেলিয়া

রাঙ্গামাটির ৩৮৯ বিদ্যুৎবিহীন বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল বসানোর পরিকল্পনা

শাহরাস্তিতে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩

যেভাবে বুঝবেন আপনার হাড় দুর্বল হচ্ছে কি না

চীনে শক্তিশালী টাইফুন ডলফিন, ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের সতর্কতা

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১১১

এক আগুন নিভতেই আরেক আগুন, ভয়াবহ দাবানলে যুক্তরাষ্ট্র