
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের সংশোধনীসহ পাশ হওয়া অর্থবিলে জনস্বাস্থ্য-ক্ষতি বিবেচনায় না নিয়ে নিকোটিনজাত দ্রব্য, তামাকজাত দ্রব্য ও এর কিছু উপাদানের ওপর প্রস্তাবিত কর কমানোর প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি)। আজ বুধবার (১ জুলাই ২০২৬) বিকেলে বিএনটিটিপির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিকোটিন পাউচের ওপর প্রস্তাবিত সম্পূরক শুল্কের হার ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়েছে। বাজেটে প্রতি ১০ গ্রাম নিকোটিন পাউচের মূল্য ধরা হয়েছে মাত্র ৫০০ টাকা যা বর্তমান বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম। একইভাবে বাজেটে প্রতি ১০ শলাকা হিটেড টোব্যাকো এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ২১০ টাকা অথচ বর্তমান বাজারে প্রতিটি হিটেড টোব্যাকো/ই-সিগারেট/ভেপ এর মূল্য ৫০০ টাকা বা তার চেয়ে বেশি। কোন কারণে এই দুটি পণ্যের বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্য ধরা হয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেট ফিল্টার এবং ফিল্টার তৈরির উপকরণ অ্যাসিটেট টু/সেলুলোজ অ্যাসিটেট আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক ৩০০ শতাংশ করা হয়েছিলো। কিন্তু সংশোধিত অর্থবিলে সেটা ১০ ভাগের একভাগ, অর্থাৎ ৩০ শতাংশ করা হয়েছে! অন্যদিকে নিকোটিন পাউচ তৈরির কাাঁচামাল নিকোটিন গ্রানিউলস আমদানিতে ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রস্তাব করা হলেও সেটা কমিয়ে ৬০ শতাংশ করা হয়েছে। যা প্রস্তাবিত মূল্যের ছয় ভাগের একভাগ মাত্র। অর্থাৎ রাজস্ব বৃদ্ধির কথা বলে এসব পণ্যে করারোপ করার কথা বলা হলেও সংশোধিত অর্থবিলে তামাক কোম্পানির প্রস্তাবনারই প্রতিফলন হয়েছে। কিশোর তরুণদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে এসব পণ্য নিষিদ্ধ হওয়া আবশ্যক। কিন্তু নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত উচ্চ মূল্য এবং উচ্চ হারে কর আরোপ করা হলে এসব পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিএনটিটিপি ক্ষেত্রমত মূল্য বৃদ্ধি ও উচ্চ কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছিলো। কিন্তু সরকার সেটা আমলে নেয়নি।
বিএনটিটিপি মনে করে সরকার তামাক কোম্পানির পাতা ফাঁদে পা দিয়েছে। তারা এসব নতুন ধরণের তামাকজাত দ্রব্য সস্তায় বিক্রি করে নিকোটিন নির্ভরতার এক নতুন প্রজন্ম তৈরি করতে চায়। সরকারের এই সিদ্ধান্তে দেশের কোটি কোটি শিশু-কিশোর-তরুণ তথা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নতুন নেশার ফাঁদে আটকে পড়বে যা সার্বিক জনস্বাস্থ্যে মারাত্বক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশে নতুন হলেও বিশ্বে অনেক দেশ নিকোটিন পাউচ, ই-সিগারেট, ভেপ নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রণ করছে। ইতোমধ্যে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ শ্রীলংকা, নেপাল, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইরান, ইরাক, ওমান, কাতারসহ বিশ্বের মোট ৪৭ টি দেশে এসব পণ্য বিক্রয় নিষিদ্ধ। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যও ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করেছে এবং অন্য অনেক দেশে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও পরামর্শ উপেক্ষা করে বাজেটে নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকোর মূল্য নির্ধারণ ও কর আরোপের মাধ্যমে পণ্যগুলোকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। এসব পণ্যের বহুমাত্রিক ক্ষতি ও জনস্বাস্থ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব বিবেনায় এসব পণ্যকে নিষিদ্ধ করার দাবী জানিয়েছে বিএনটিটিপি। একইসঙ্গে ইমার্জিং তামাক পণ্য নিষিদ্ধের দাবী পুনঃব্যাক্ত করে এবং নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত উচ্চ মূল্য নির্ধারণ এবং উচ্চ হারে কর আরোপের দাবি জানিয়েছে তারা।