
দিনাজপুরে টানা ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতের কারণে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ক্রমাগত তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর ও যানবাহন চালকরা।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯০ শতাংশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর জেলা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন।
সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঘন কুয়াশা আর হিম বাতাসে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় সড়কে যান চলাচলেও ধীরগতি দেখা গেছে। এতে যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি বেড়েছে।
তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষ। অনেক এলাকায় শীত থেকে বাঁচতে খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। জীবিকার তাগিদে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও কাজের সন্ধানে বের হচ্ছেন দিনমজুর ও শ্রমজীবীরা।
রিকশাচালক আমজাদ হোসেন বলেন, “ঠান্ডার কারণে রিকশা চালানো খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে। শীতের জন্য মানুষ কম বের হচ্ছে, ফলে আয় অনেক কমে গেছে।”
ভ্যানচালক শফিকুল জানান, “প্রয়োজন ছাড়া সকালে কেউ বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। এতে আমাদের কাজ প্রায় নেই বললেই চলে।”
ট্রাকচালক সাকিব বলেন, “সন্ধ্যার পর এত কুয়াশা পড়ে যে ২০ হাত দূরের গাড়িও ঠিকমতো দেখা যায় না। এতে গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেক বেশি সময় লাগে।”
দিনাজপুর জেলা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন জানান, আগামী কয়েকদিনে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে এবং কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।