ঢাকাশুক্রবার , ৩১ জুলাই ২০২৬
  1. সর্বশেষ

তামাকজাত দ্রব্যের চোরাচালান ও কর ফাঁকি রোধে সুনির্দিষ্ট করারোপ জরুরি

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১:৩৪ বিকাল

Link Copied!

বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলো ব্যবসা বৃদ্ধি ও সরকারের নীতিতে হস্তক্ষেপের জন্য নানা ধরনের তত্ত্ব নিয়ে হাজির হয়। সরকারের শক্তিশালী তামাক কর নীতি না থাকার সুযোগ নিয়ে কৌশলে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে তামাক কোম্পানি। ফলে তামাকজনিত রোগে মৃত্যু ও চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি হলেও সেই তুলনায় রাজস্ব বৃদ্ধি হয়নি। ফলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও কর বৃদ্ধিতে সুনির্দিষ্ট করারোপ জরুরি। কারণ তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সুনির্দিষ্ট কর আরোপ তামাকজাত দ্রব্যের চোরাচালান ও কর ফাঁকি রোধে গুরুত্বপূর্ণ।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১১ টায় ‘তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সুনির্দিষ্ট করারোপ : জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধির কার্যকর উপায়’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারের জনস্বাস্থ্য ও তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর ট্যোবাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি) অনলাইন মিটিং প্লাটফর্ম জুমে এ ওয়েবিনারের আয়োজন করে।

ওয়েবিনারে বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের সাবেক মহাপরিচালক মো. শাহাদৎ হোসেন মাহমুদ, তামাকমুক্ত রেলওয়ে প্রকল্পের কন্সালটেন্ট ও জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল (এনটিসিসি) এর সাবেক সমন্বয়কারী হোসেন আলী খোন্দকার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল্লাহ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বিএনটিটিপির টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক ড. রুমানা হকের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএনটিটিপি’র প্রজেক্ট ম্যানেজার হামিদুল ইসলাম হিল্লোল এবং সঞ্চালনা করেন বিএনটিটিপি’র সিনিয়র প্রজেক্ট অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার ইব্রাহীম খলিল।

ওয়েবিনারে বক্তারা বলেন, সরকারেকে বিভ্রান্ত করতে বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলো অতীতের মতো নানা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে ও মিথ্যাচার করছে। তারা চোরাচালানের তত্ত্ব প্রচার করছে। অথচ গত ২১ বছরে তামাক থেকে সরকারের রাজস্ব আয় বেড়েছে প্রায় ১৬ গুন এবং প্রতি বছরের রাজস্ব আয় কম হলেও পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে বেশি ছিলো। অন্যদিকে এনবিআরের আটককৃত শীর্ষ ১০ পণ্যের তালিকায় সিগারেট নেই। আর্ক ফাউন্ডেশনের এক গবেষণাতে দেখা গেছে, দেশে অবৈধ সিগারেটের বাজার মাত্র ৫.৪ শতাংশ।

তারা আরও বলেন, সরকার ২০০৩ সালে এফসিটিসিতে স্বাক্ষর করলেও ইলিসিট ট্রেড প্রোটোকলে স্বাক্ষর করেনি। এর কারণ তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ ও প্রাচারণা। এই প্রোটোকলে স্বাক্ষর করলে যতোটুকু অবৈধ বাণিজ্য হয় সেটাও কমে যেতো। দেশে একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে তামাকজাত দ্রব্যের কোনো আন্তঃদেশীয় অবৈধ বাণিজ্য হয় না। যতটুকু হয় সেটা অভ্যন্তরীণ অবৈধ বাণিজ্য। অবৈধ বাণিজ্য বন্ধে ডিজিটাল মনিটরিং ও ট্রাকিং জরুরি। তাহলে ধোঁয়াহীন ও ধোঁয়াযুক্ত তামাকজাত দ্রব্যের অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে আসবে। আর সেজন্য তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সুনির্দিষ্ট করারোপের কোনো বিকল্প নেই।

বক্তারা আরও বলেন, তামাক কোম্পানি একেক সময় একেক মিথ্যাচার ও মিথকে টার্গেট করে। সম্প্রতি দেখেছি তারা অবৈধ ব্যবসা নিয়েও খুব প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। তারা এনবিআরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকেও এ বিষয়ে বিশ্বাস করিয়ে ফেলেছে। কিন্তু এ বিষয়ে যতোগুলো গবেষণা দেশে হয়েছে কোনটাতেই এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। তারপরও ব্যবসা বৃদ্ধি ও নীতিতে হস্তক্ষেপের জন্য চেরাচালান তত্ত্ব নিয়ে হাজির হচ্ছে। ফলে সরকারের উচিত জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক কোম্পানির মিথ্যাচারে কর্ণপাত না করে সুনির্দিষ্ট করারোপ জরুরি।

ওয়েবিনারে বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণে কর্মরত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ সক্রিয়ভাবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের অর্ধশত প্রতিনিধিবৃন্দ এ ওয়েবিনার অংশগ্রহণ করেন।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

640 Public Transport Drivers Trained Under BRTA and DAM Initiative

বিআরটিএ ও ডামের উদ্যোগে ৬৪০ গণপরিবহন চালককে প্রশিক্ষণ

আগামী ৫ দিন যেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া

নওগাঁয় বিআরটিসি বাসের চাপায় কলেজশিক্ষক নিহত

খুলনায় বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৪৫

আর্জেন্টিনায় অগ্নিনির্বাপণ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৭

ঢাকাসহ ৯ জেলায় ঝোড়ো হাওয়া-বজ্রবৃষ্টির আভাস

২১ কোটি বছর আগের ডাইনোসরের খোঁজ পেলেন বিজ্ঞানীরা

জাপানে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানায় নিহত ৫, নিখোঁজ ৪

জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ ১০ হাজারের বেশি অতিদরিদ্র নারী পেলেন জীবিকা সহায়তা

পরিকল্পিত নগরায়ণ ও সবুজ ভবন নির্মাণে গুরুত্বারোপ গৃহায়নমন্ত্রীর

একই জমিতে কৃষি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের আহ্বান