
তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এ লক্ষ্যে করপোরেশনের আওতাধীন বাস টার্মিনাল, রেস্তোরাঁ, বাজার ও অন্যান্য জনসমাগমস্থলে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে ডিএসসিসির সম্মেলন কক্ষে ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে শতভাগ ধূমপান ও তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণে করণীয়’ শীর্ষক এক পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ খাইবার রহমান কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ও ডিএসসিসি যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতের উপপরিচালক মুখলেসুর রহমান জানান, ‘গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে’ (জিএটিএস) অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত পণ্য ব্যবহার করেন। তাঁদের মধ্যে ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ধূমপান করেন। এ ছাড়া প্রায় ৪ কোটি মানুষ নিজে ধূমপান না করলেও পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন।
জিএটিএস ২০১৭-এর তথ্য অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে অধূমপায়ীদের প্রায় ৪২ শতাংশ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। এর প্রধান কারণ হিসেবে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কে সচেতনতার অভাব, তামাকজাত পণ্যের সহজলভ্যতা, বিদ্যমান আইনের অপর্যাপ্ত ও অকার্যকর প্রয়োগ এবং তামাক কোম্পানিগুলোর প্রতারণামূলক কৌশলের কথা তুলে ধরা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, কর্মক্ষেত্রে প্রায়ই ধূমপান করতে দেখা যায়। এতে অধূমপায়ীরা পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাবের শিকার হন। তাই কর্মক্ষেত্র শতভাগ ধূমপানমুক্ত রাখা জরুরি, যাতে সবাই পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারেন।
তারা ডিএসসিসির আওতাধীন বাস টার্মিনাল, রেস্তোরাঁসহ সব জনসমাগমস্থলে ধূমপান নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। প্রয়োজনে এসব স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনারও সুপারিশ করেন তাঁরা।
বক্তারা কর্মক্ষেত্র ও এর আশপাশের এলাকা ধূমপানমুক্ত রাখা, ‘ধূমপান নিষেধ’ লেখা সাইনবোর্ড স্থাপন এবং ডিএসসিসির সব কার্যালয়কে ধূমপানমুক্ত রাখার জন্য কার্যকর নির্দেশনা জারির আহ্বান জানান।
তাঁরা বলেন, তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ হলেও তামাক কোম্পানিগুলো কৌশলগতভাবে খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রকে পণ্যের প্রচারের কাজে ব্যবহার করছে। এ প্রবণতা বন্ধে ডিএসসিসির আওতাধীন বাজার, জনসমাগমস্থল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিরোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এ ছাড়া, সিটি করপোরেশনের আসন্ন বাজেটে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা। বরাদ্দ করা অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা জোরদারের আহ্বান জানান তাঁরা। এ কার্যক্রমে তরুণ প্রজন্মকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্যও উৎসাহিত করার কথা বলেন বক্তারা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান। এ সময় সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নূর হোসেন, ডিএসসিসি সচিব মাশিউর রহমান খানসহ করপোরেশনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।