
অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, “জনগণের সম্পদ যারা বেআইনিভাবে লুট করছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।” এ বিষয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করবে বলে জানান তিনি।
শনিবার (১৪ জুন ২০২৫) বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউজে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা বলেন, “সরকার পাথর কোয়ারি থেকে যে রাজস্ব পায়, তার চেয়েও বেশি ক্ষতি হচ্ছে অতিরিক্ত ওজনের ট্রাক চলাচলের ফলে। এই অসামঞ্জস্য দূর করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের চাহিদার মাত্র ৬ শতাংশ পাথর অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসে। “এই অল্প প্রয়োজন পূরণ করতে গিয়ে পরিবেশ ধ্বংস করা চলবে না,” মন্তব্য করেন রিজওয়ানা হাসান।
এর আগে তিনি পরিবেশ অধিদপ্তর, বন বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সিলেট অঞ্চলের বন সংরক্ষণ, নদী ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ রক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে বৈঠক করেন।
তিনি বলেন, “সিলেটের অনন্য প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য আমাদের রক্ষা করতেই হবে। নদী, হাওর, পাহাড় ও টিলার সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় এবং তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।”
এ সময় তিনি সরকারি অফিসে সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক বন্ধে নির্দেশনা দেন এবং পাহাড়-টিলা কাটা বন্ধে ‘না’ লেখা বোর্ড স্থাপনের নির্দেশ দেন।
বন্যা নিয়ন্ত্রণে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে এবং আকাশমণি গাছ কাটা বন্ধে বন বিভাগকে নির্দেশনা দেন উপদেষ্টা। পাশাপাশি অবৈধ স্টোন ক্রাশিং মেশিনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. সাইফুল ইসলাম, বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, জেলা প্রশাসক মো. শের মাহবুব মুরাদ, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির এবং পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের পরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার।
উল্লেখ্য, এর আগে উপদেষ্টাদ্বয় জাফলংয়ের বিভিন্ন এলাকা জলযানে ঘুরে দেখেন এবং ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তাঁরা জাফলং স্টোন মিউজিয়াম ও হরিপুর রেস্ট হাউজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।