
বঙ্গোপসাগরে এক টানেই ২ হাজার ২০০টি ইলিশ পেয়েছেন পটুয়াখালীর জেলে আলমগীর মাঝি। ৪৬ মণ ওজনের এসব ইলিশ বিক্রি করে তিনি পেয়েছেন প্রায় সাড়ে ৪৮ লাখ টাকা। দীর্ঘদিনের লোকসানের পর একসঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ ইলিশ পাওয়ায় আনন্দিত জেলে ও ট্রলারের শ্রমিকরা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) পায়রা বন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সাগরে এফবি জুনায়েদ ট্রলার নিয়ে ১৬ জন জেলে জাল ফেলেন। এক টানেই জালে উঠে আসে ২ হাজার ২০০টি ইলিশ।
পরে মাছগুলো মহিপুর মৎস্য আহরণ কেন্দ্রের ‘মনোয়ারা ফিশ’ আড়তে বিক্রির জন্য আনা হয়। বিপুল পরিমাণ ইলিশ দেখতে সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা ও পাইকারদের ভিড় জমে।
খোলা নিলামে ২৪ মণ বড় আকারের ইলিশ ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২২ মণ মাঝারি আকারের ইলিশ ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। সব মিলিয়ে মাছ বিক্রি হয়েছে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।
এফবি জুনায়েদ ট্রলারের মাঝি আলমগীর বলেন, “গত বৃহস্পতিবার ১৬ জন জেলেকে নিয়ে পায়রা বন্দরের শেষ বয়া এলাকায় জাল ফেলি। একবার টান দেওয়ার পরই ২ হাজার ২০০ পিস ইলিশ উঠে আসে। প্রায় পাঁচ বছর পর একসঙ্গে এত বড় চালানের ইলিশ পেলাম। দীর্ঘদিনের লোকসানের পর এই মাছ পেয়ে খুব ভালো লাগছে।”
মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির আকন বলেন, দীর্ঘদিন পর বাজারে এত বড় চালানের ইলিশ এসেছে। বর্তমানে বাজারে ইলিশের দাম ভালো থাকায় জেলেরা ন্যায্য দাম পেয়েছেন। সাধারণত একসঙ্গে এত বড় পরিমাণের ইলিশ পাওয়া যায় না।
সাগরে ইলিশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, কিছুদিন আগেও সাগরে ইলিশের খরা ছিল। তবে এখন জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। এক ট্রিপেই ৪৬ মণ ইলিশ পাওয়ার ঘটনায় উপকূলের জেলেদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সামনে ইলিশ ধরার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এতে জেলে ও আড়তদারসহ সংশ্লিষ্ট সবাই লাভবান হবেন।