
যখন নতুন প্রজন্মের অনেকেই মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্ত, তখন টাঙ্গাইলের একটি কলেজে ভিন্নধর্মী উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে কৃষি শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। ক্লাসের পাশাপাশি মাঠে নেমে তারা শিখছে বীজ থেকে চারা উৎপাদন, মাটি প্রস্তুত, সবজি চাষ এবং বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনের কৌশল।
মধুপুর উপজেলার প্রত্যন্ত মহিষমারা গ্রামের মহিষমারা কলেজে ২০১৮ সাল থেকে চালু হয়েছে উৎপাদনমুখী শিক্ষা কার্যক্রম। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও ২০২২ সালের জাতীয় কৃষি পুরস্কারপ্রাপ্ত আদর্শ কৃষক ছানোয়ার হোসেনের উদ্যোগে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে বর্তমানে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
ছানোয়ার হোসেন জানান, লেখাপড়া শেষে চাকরি না পেলেও যেন শিক্ষার্থীরা বেকার না থাকে, সে লক্ষ্যেই কৃষিকে শিক্ষার অংশ করা হয়েছে। তাঁর মতে, দেশের উর্বর জমি ও কৃষির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষিত তরুণদের কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
কলেজ সূত্র জানায়, ক্যাম্পাসের ৪০ শতাংশ জমিতে গড়ে তোলা উৎপাদনমুখী শিক্ষা কর্নারে শিক্ষার্থীদের মৌসুমি সবজি, ফল ও মসলার চারা উৎপাদন, মাটি ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ কৃষি প্রযুক্তি শেখানো হয়। ক্লাসের বিরতি ও ছুটির পর শিক্ষকরা দলভিত্তিকভাবে শিক্ষার্থীদের এসব কাজে সম্পৃক্ত করেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজে শেখা অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তারা নিজ বাড়িতেও কীটনাশকমুক্ত সবজি চাষ করছেন। এতে পরিবারের সদস্যরাও উৎসাহিত হচ্ছেন। ভবিষ্যতে অনেকেই কৃষি কর্মকর্তা বা কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।
কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এই কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মোবাইল ও ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে দূরে রাখার পাশাপাশি কৃষির প্রতি আগ্রহী করে তুলছে। একই সঙ্গে তারা পরিবারকেও কৃষিকাজে সহযোগিতা করছে।
কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় শুধু চাকরির ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীদের উৎপাদনমুখী দক্ষতা অর্জন জরুরি। কৃষি প্রশিক্ষণ তাদের ভবিষ্যতে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত মহিষমারা কলেজটি বর্তমানে এমপিওভুক্ত। ১৩৫ শতাংশ জমির ওপর গড়ে ওঠা কলেজটিতে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদানে নিয়োজিত রয়েছেন ১৮ জন শিক্ষক। স্থানীয়ভাবে শিক্ষার পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক দক্ষতা তৈরির এ উদ্যোগ ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সুত্র: বাসস