ঢাকাবুধবার , ৪ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে তিস্তার ভাঙন, পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ জুলাই ২০২৬, ৪:১৭ বিকাল

Link Copied!

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় নোহালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত দুটি শাখা বেড়িবাঁধে আকস্মিক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে গ্রামে পানি ঢুকে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে শতাধিক পরিবারের বসতভিটা, আবাদি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার হুমকিতে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার নোহালী গ্রামের সামনে আবাদি জমি, বসতভিটা ও সড়ক রক্ষায় মূল বাঁধের ভেতরে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে দুটি শাখা বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেছিলেন। সম্প্রতি তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই বাঁধে ভাঙন শুরু হয়। এরই মধ্যে প্রায় ১৫০ মিটার বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন দিয়ে গ্রামে পানি ঢুকে ফসলি জমি তলিয়ে গেছে এবং হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

ভাঙনের কারণে চর বাঘধোগরা, চরকাচারী, চিলাখাল, বিনবিনিয়া ও মুকুটপাড়াসহ আশপাশের এলাকার বসতভিটা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির এবং রাস্তাঘাট হুমকির মুখে পড়েছে। পানিবন্দি পরিবারগুলো শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদিপশু নিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে। অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যের বাড়িতে উঠতে বাধ্য হয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোনায়েম হোসেন বলেন, নদীভাঙনের কারণে প্রতিবছরই মানুষ ঘরবাড়ি হারাচ্ছে। বছরের পর বছর শুধু আশ্বাস মিললেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। তিনি জানান, কয়েক হাজার জিও ব্যাগ দিয়ে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য মিনার বাজার থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ জরুরি।

আরেক বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, চোখের সামনে অনেকের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তার নিজের তিনটি ঘরও এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বসতভিটা হারালে পরিবার নিয়ে অন্য কোথাও আশ্রয় নেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না বলে তিনি জানান।

স্থানীয় মমিনুল ইসলাম বলেন, তিস্তার ভাঙনে ইতোমধ্যে অনেক বাড়িঘর, মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে চলে গেছে। তারা ত্রাণ নয়, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ভাঙন রোধে ইতোমধ্যে সাড়ে চার হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও জিও ব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. জেসমিন আক্তার জানান, ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

সপ্তাহজুড়ে কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া? জানাল অধিদপ্তর

স্তনবৃন্তে স্পর্শ করলেই কেন হঠাৎ মন খারাপ, কী এই ‘স্যাড নিপল সিনড্রোম’?

upay Rewards Three Distributor Partners with Umrah Packages under ‘Shopner Umrah 2026’ Campaign

উপায়ের ‘স্বপ্নের ওমরাহ’ ক্যাম্পেইনে পুরস্কার পেলেন ৩ ডিস্ট্রিবিউশন পার্টনার

সাতক্ষীরায় ৭৫ শতাংশ জলবায়ু বাস্তুচ্যুত পরিবার তীব্র খাদ্য সংকটে

মিরপুর বেড়িবাঁধে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৪

হাসপাতাল নেই ৬০ গ্রামে, অসুস্থ হলে আট ঘণ্টার নদীপথ পাড়ি

চাঁদপুরে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে ৬ যানবাহনকে জরিমানা

ঢাকায় শুষ্ক আবহাওয়া, কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা

বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু রক্ষায় ১২ সংস্থার সঙ্গে ইউএনডিপির চুক্তি

সড়ক দুর্ঘটনার আচরণগত ঝুঁকি নিরসনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে মতবিনিময় সভা

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু