
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে জলবায়ু-সহিষ্ণু করে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। দেশটির ‘অস্ট্রেলিয়ান এনজিও কোঅপারেশন প্রোগ্রাম’ (এএনসিপি)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এখন তৃণমূল পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের (ডিএফএটি) এএনসিপি কর্মসূচির একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেছে। সফরকালে তারা ঢাকা, সাতক্ষীরা ও গোপালগঞ্জে চলমান একাধিক প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। প্রতিনিধিদল জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি প্রযুক্তি, নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন, উন্নত আবাসন ব্যবস্থা এবং পানি ও স্যানিটেশন সংক্রান্ত উদ্যোগগুলোর কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করেন। উপকূলীয় ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মানুষের জীবনমান ও জীবিকা কীভাবে সুরক্ষিত করা যায়, তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ের অভিজ্ঞতা অর্জনই ছিল এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য।
সফরের শেষ পর্যায়ে রাজধানীর অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারী এনজিও প্রতিনিধিরা জলবায়ু অভিযোজন ও উন্নয়নমূলক কাজের নানা দিক তুলে ধরেন। বৈঠকে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে ওঠার ওপর জোর দেওয়া হয়। বর্তমানে এএনসিপি বাংলাদেশে ১২টি এনজিওর সঙ্গে ১৮টি প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করছে, যার মূল লক্ষ্যই হলো জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের এই সহায়তা শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুযোগ সৃষ্টি এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে উত্তরণে বাংলাদেশের স্থানীয় উদ্যোগের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া সরকারের এই অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও সুসংহত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।