ঢাকাশনিবার , ১১ জুলাই ২০২৬
  1. সর্বশেষ

কক্সবাজারে বন্যা-ভূমিধসে ২৬ প্রাণহানি, দুর্ভোগে প্রায় ৩ লাখ মানুষ

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ জুলাই ২০২৬, ৪:২০ বিকাল

Link Copied!

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও পাহাড় ধসে কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে। কোথাও কোথাও পানি কমতে শুরু করলেও চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়ার বড় অংশে জলাবদ্ধতা কাটেনি। এতে প্রায় তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। গত সাত দিনে জেলায় পানিতে ডুবে ও পাহাড় ধসে অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলার ১০টি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের অন্তত ১৫০টি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলা। এছাড়া কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও ঈদগাঁও উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাও এখনো পানির নিচে রয়েছে।

শুক্রবার চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে বন্যার পানি থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে ১২ বছর বয়সী হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার দুই বোনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার চকরিয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে দুই বছরের এক শিশু এবং মাতামুহুরী উপজেলায় তিন বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়। একই দিন ভোরে চকরিয়ার মছনিয়াকাটা এলাকায় পাহাড় ধসে বসতঘরের ওপর মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের দুই শিশুর প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া কক্সবাজার সদর, পেকুয়া ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৫ জন রোহিঙ্গাসহ আরও ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম বলেন, বান্দরবান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বেড়ে চকরিয়া ও পেকুয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদীর পানি কমতে শুরু করলেও নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামতে আরও সময় লাগবে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানান, চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় এক লাখের বেশি মানুষ এখনো পানিবন্দি। ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের জন্য শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদ রহমান জানান, সরকারি হিসেবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬২ জন। তাদের মধ্যে ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৪ হাজার ৬১ জন আশ্রয় নিয়েছেন। তবে স্থানীয় প্রশাসনের হিসাবে পানিবন্দি মানুষের প্রকৃত সংখ্যা প্রায় তিন লাখ।

তিনি আরও জানান, দুর্গত মানুষের জন্য সরকারিভাবে ২০০ টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম চালু রেখে ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় করা হচ্ছে।

এদিকে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ছয় দিনে জেলায় ৭০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই দিনও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং নতুন করে পাহাড় ধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকার জন্য স্থানীয় সতর্ক সংকেত নম্বর-৩ বহাল রয়েছে।

জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবীরা যৌথভাবে দুর্গত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া এবং ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ করছে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

প্লাস্টিক দূষণ কমাতে ২৫ উদ্যোক্তাকে ৫৪.৫০ লাখ টাকা পুরস্কার

ICMAB Delegation Meets Honorable Secretary of the Ministry of Commerce

আইসিএমএবি প্রতিনিধিদলের বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ

বন্যার পানিতে নৌকা ডুবে প্রাণ গেল কিশোরীর

বন্যা মোকাবিলায় চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর উদ্ধার অভিযান শুরু

গোমতীর পানি বাড়ায় ব্রাহ্মণপাড়ায় বন্যার শঙ্কা

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কুমিল্লার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু

বৃক্ষমেলায় বিদেশি ফলগাছের সমাহার, একটি চারার দাম ৫০ হাজার টাকা

আজ বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস, তরুণদের সম্ভাবনা বাস্তবায়নের আহ্বান

বর্ষায় জলমগ্ন সড়কে গাড়ি চালানো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

১৬ জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝড়ের আভাস

বন্যাদুর্গতদের পাশে সরকার, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সবার কাছে পৌঁছাবে: প্রতিমন্ত্রী