
প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক পরিকল্পনা উপস্থাপনের স্বীকৃতি হিসেবে ২৫ উদ্যোক্তাকে মোট ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দিয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন ও জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো)।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর সোবহানবাগে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা’ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, উদ্ভাবনী পণ্য প্রদর্শনী ও সার্কুলার অর্থনীতি বিষয়ক নীতি সংলাপ অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। শিল্পসচিব আব্দুন নাসের খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ড. ফাহমিদা খানম, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান, বিআইএমের মহাপরিচালক মো. সালিম উল্লাহ, ইউনিডোর ইউনিট চিফ জেরোম স্টাকি এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।
প্রতিযোগিতায় সারা দেশ থেকে নারী, শিক্ষার্থী, বেসরকারি সংস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতের ৬৪১ উদ্যোক্তার আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ৩০ জনকে চূড়ান্ত পর্বে নির্বাচন করা হয়। সেখান থেকে ২৫ জন উদ্যোক্তাকে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়। প্রথম তিনজনকে পাঁচ লাখ টাকা করে, পরবর্তী সাতজনকে সাড়ে তিন লাখ টাকা করে এবং আরও ১৫ জনকে এক লাখ টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এসএমই ফাউন্ডেশন ও ইউনিডোর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত **ক্লিনটেক অ্যাক্সিলারেটর অ্যান্ড কমার্শিয়ালাইজেশন প্রোগ্রাম**-এর আওতায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, সার্কুলার অর্থনীতি এবং উদ্ভাবনী উদ্যোক্তা উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। কর্মসূচির মাধ্যমে উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক সমাধান চিহ্নিতকরণ, উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, বাণিজ্যিকীকরণ সহায়তা এবং বিনিয়োগ সংযোগ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, উৎপাদন ও ভোগের প্রতিটি ধাপে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, পুনঃব্যবহার এবং পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে পরিবেশ সুরক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি একসঙ্গে অর্জন করা সম্ভব হবে।
এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, প্লাস্টিকের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধতার কারণে দেশে প্লাস্টিক দূষণ বাড়ছে। বিশ্বব্যাংকের ২০২০ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৯ লাখ ৭৭ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হলেও পুনর্ব্যবহার করা হয় মাত্র ৩১ শতাংশ। শুধু ঢাকায় প্রতিদিন ৬৪৬ টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হলেও পুনর্ব্যবহার হয় মাত্র ৩৭ শতাংশ।
তিনি বলেন, সরকারের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে প্লাস্টিকের ব্যবহার অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ সেই লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-এর শিল্প, উদ্ভাবন ও দায়িত্বশীল উৎপাদন-ভোগসংক্রান্ত লক্ষ্য বাস্তবায়নেও সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ শিল্প প্রতিষ্ঠানের ৯৯ শতাংশই কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই)। শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশ এ খাতে, যেখানে তিন কোটিরও বেশি মানুষ কাজ করছেন।
এসএমই ফাউন্ডেশন জানায়, ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংস্থাটির বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা সুবিধা পেয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই নারী উদ্যোক্তা।