
জাতীয় বৃক্ষমেলায় দেশি ফলগাছের পাশাপাশি এবার স্থান পেয়েছে বিভিন্ন দেশের বিরল ও বিদেশি ফলগাছের চারা। যুক্তরাষ্ট্রের ‘আপেল ম্যাঙ্গো’ থেকে শুরু করে চীন থেকে আমদানি করা আপেলের চারাও বিক্রি হচ্ছে মেলায়। তবে এসব চারার দাম ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হওয়ায় দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হলেও বিক্রি তুলনামূলক কম।
মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন নার্সারির দাবি, তাদের সংগ্রহে প্রায় ১০০ প্রজাতির বিদেশি আমের চারা রয়েছে। এসব চারার দাম ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, আফগানিস্তান, ইরান, ইরাক, ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশের ফলগাছের কলমও বিক্রি হচ্ছে।
হোসেন নার্সারির কর্মীরা জানান, তাদের স্টলে বিদেশি আম ছাড়াও রাম্বুটান, মালয়েশিয়ান ডুরিয়ান, অ্যাভোকাডো, ম্যাঙ্গোস্টিন, মিরাকল বেরি, বিভিন্ন জাতের চেরি, সাইট্রাসজাতীয় ফল, রেড কলা, ব্যানানা ম্যাঙ্গোসহ নানা ধরনের বিদেশি ফলের চারা রয়েছে।
নার্সারিটির মালিক হাসান বলেন, তাদের সংগ্রহে ভারতের আলফানসো, থাইল্যান্ডের হানিডিউ ও মহাচক, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার আপেল ম্যাঙ্গো, পাকিস্তানের আনোয়ার-রাতুলসহ বিভিন্ন জাতের আম রয়েছে। অনেক চারাতেই ইতোমধ্যে ফল ধরেছে।
ফয়সাল নার্সারির স্টলে লাল ও সবুজ আপেলের চারা প্রদর্শন করা হয়েছে। স্টলটির মালিক জানান, লাল আপেলের চারার দাম ৩০ হাজার এবং সবুজ আপেলের চারার দাম ৫০ হাজার টাকা। সম্প্রতি এসব চারা চীন থেকে আমদানি করা হয়েছে।
তবে দেশের আবহাওয়া ও মাটিতে এসব বিদেশি গাছ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যদিও বিক্রেতাদের দাবি, যথাযথ পরিচর্যা করলে এসব গাছে বড় আকারের ফল পাওয়া সম্ভব।
মেলায় ঘুরতে আসা অনেকেই বিদেশি চারার দাম বেশি বলে মন্তব্য করেন। মিরপুরের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, তিনি এবার বিএডিসির স্টল থেকে ৪০০ টাকায় মিষ্টি তেঁতুল ও দারুচিনির চারা কিনেছেন, যা অন্য স্টলের তুলনায় কম দামে পাওয়া গেছে।
মেলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাতীয় বৃক্ষমেলা আগামী এক মাস চলবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় মাল্টা, পার্সিমন, সৌদি খেজুর, আঙুর, কমলা, জাবুটিকাবা, পিচ, আখরোট, চন্দনসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি গাছের চারা এবং জৈব সারও বিক্রি হচ্ছে।