ঢাকাবুধবার , ৪ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ ও আবহাওয়ার চরম পরিবর্তনের আশঙ্কা

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২৩ জুন ২০২৬, ৩:২৯ বিকাল

Link Copied!

পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরে ‘সুপার এল নিনো’ পরিস্থিতির সূচনা হয়েছে, যা বৈশ্বিক আবহাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের কয়েকটি এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সহযোগিতায় পরিচালিত সেন্টিনেল-৬ মাইকেল ফ্রেইলিচ স্যাটেলাইটের ৮ জুনের পর্যবেক্ষণে এ প্রবণতা ধরা পড়ে, যা শক্তিশালী এল নিনোর ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নাসা জানিয়েছে, সমুদ্রের পানি উষ্ণ হলে তা প্রসারিত হয় এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রের তাপমাত্রার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘এল নিনো’ হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত প্রক্রিয়া, যা নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে সৃষ্টি হয়। এর তীব্রতা বেশি হলে তাকে ‘সুপার এল নিনো’ বলা হয়। এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক আবহাওয়ার ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

নাসা সতর্ক করে বলেছে, এবারের সুপার এল নিনোর প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়িয়ে দিতে পারে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াসহ পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে খরার ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তীব্র গরম অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, উত্তর আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল, ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা এবং এশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা দেখা যেতে পারে। দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাংশ ও দক্ষিণ আফ্রিকাতেও দীর্ঘ সময় উষ্ণ আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।

সেন্টিনেল-৬ প্রকল্পের বিজ্ঞানী ডা. সেভেরিন ফুরনিয়ে বলেন, ১৯৯৭ সালের শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতির সঙ্গে চলতি বছরের ৮ জুনের প্রশান্ত মহাসাগরের পরিস্থিতির বেশ মিল রয়েছে। ১৯৯৭ সালের এল নিনো ছিল ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী জলবায়ুগত ঘটনা। এবারের পরিস্থিতিও একই ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুপার এল নিনোর কারণে শুধু তাপমাত্রাই নয়, বৃষ্টিপাতের ধরনেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশ্বের কিছু অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বাড়লেও অন্য কিছু এলাকায় খরা ও পানি সংকট দেখা দিতে পারে।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, অতীতে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং দুর্ভিক্ষের মতো মানবিক সংকটও দেখা দিয়েছে। ফলে এবারের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বিজ্ঞানী ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

নওগাঁয় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ব্যাংক কর্মচারীর মৃত্যু

সপ্তাহজুড়ে কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া? জানাল অধিদপ্তর

স্তনবৃন্তে স্পর্শ করলেই কেন হঠাৎ মন খারাপ, কী এই ‘স্যাড নিপল সিনড্রোম’?

upay Rewards Three Distributor Partners with Umrah Packages under ‘Shopner Umrah 2026’ Campaign

উপায়ের ‘স্বপ্নের ওমরাহ’ ক্যাম্পেইনে পুরস্কার পেলেন ৩ ডিস্ট্রিবিউশন পার্টনার

সাতক্ষীরায় ৭৫ শতাংশ জলবায়ু বাস্তুচ্যুত পরিবার তীব্র খাদ্য সংকটে

মিরপুর বেড়িবাঁধে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৪

হাসপাতাল নেই ৬০ গ্রামে, অসুস্থ হলে আট ঘণ্টার নদীপথ পাড়ি

চাঁদপুরে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে ৬ যানবাহনকে জরিমানা

ঢাকায় শুষ্ক আবহাওয়া, কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা

বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু রক্ষায় ১২ সংস্থার সঙ্গে ইউএনডিপির চুক্তি

সড়ক দুর্ঘটনার আচরণগত ঝুঁকি নিরসনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে মতবিনিময় সভা