
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর তৎপরতায় কম্বোডিয়ার একটি স্ক্যাম সেন্টার থেকে পালিয়ে আসা এক বাংলাদেশি নারী দেশে ফিরতে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে ইরাকে আটকে থাকা সাত প্রবাসী বাংলাদেশি তাদের জব্দ হওয়া পাসপোর্ট ফিরে পেয়েছেন।
শনিবার (২৩ মে) প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, ৩৪ বছর বয়সী ওই নারী ২০২৫ সালের আগস্টে একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে কম্বোডিয়ায় যান। সেখানে কম্পিউটারের কাজ ও উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়া হলেও পরে তার পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে একটি স্ক্যাম সেন্টারে আটকে রাখা হয়।
সেখানে তাকে মোবাইল ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে আর্থিক জালিয়াতির কাজে বাধ্য করা হয়। একাধিকবার পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি।
অবশেষে গত ২০ মে দালালদের চোখ ফাঁকি দিয়ে স্ক্যাম সেন্টার থেকে পালিয়ে যান ওই নারী। পরে ২১ মে হোয়াটসঅ্যাপে সরাসরি প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে দেশে ফিরতে সহযোগিতা চান।
এরপর মন্ত্রীর নির্দেশে ব্যাংককস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর তার অবস্থান নিশ্চিত করেন। পরে কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটির সহায়তায় নমপেন শহর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে ট্রাভেল পাস ইস্যুর মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি দেশে ফিরতে পারেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, ইরাকে সাত বাংলাদেশি শ্রমিকের পাসপোর্ট আটকে রাখার অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে বাংলাদেশ দূতাবাস। তদন্তে একটি কোম্পানির কাছে তাদের পাসপোর্ট জব্দ থাকার সত্যতা পাওয়া যায়। পরে দূতাবাসের হস্তক্ষেপে বৃহস্পতিবার সাতজনই তাদের পাসপোর্ট ফিরে পান।
পাসপোর্ট ফিরে পেয়ে প্রবাসীরা জানান, তারা ইরাকে কাজ চালিয়ে যেতে চান এবং নিজেরাই কাজের ব্যবস্থা করেছেন।
এছাড়া, নির্যাতনের অভিযোগে দুই বাংলাদেশিকে ইরাক থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে গিয়ে দূতাবাস কর্মকর্তারা বাগদাদের একটি আবাসিক ভবনে তাদের খুঁজে পান। তবে শারীরিক নির্যাতন বা খাবার না দেওয়ার প্রমাণ মেলেনি। পরে তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ মে দূতাবাসের সহায়তায় দেশে পাঠানো হয়।