
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান–এর মধ্যে শান্তি আলোচনা আবারও স্থবির হয়ে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৮ দশমিক ৪৮ ডলারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বহনকারী হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, দেশটির এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেসব দেশ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করছে, তাদের জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় ‘সমস্যার সম্মুখীন’ হতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। গত শুক্রবার অবরোধ অমান্য করার চেষ্টা করলে ইরানের পতাকাবাহী দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলমান উত্তেজনার কারণে যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২০ ডলার এবং মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ ডলার বেড়েছে।
এদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপরও। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ)–এর তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন জ্বালানি তেলের গড় দাম বর্তমানে ৪ দশমিক ৫২ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ৩ ডলারের নিচে ছিল।