
মৌলভীবাজারের মনু নদী সেচ প্রকল্পভুক্ত কাওয়াদিঘি হাওরে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। কাশেমপুর পাম্প হাউসের পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ায় হাওরের বোরো ফসল ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ কৃষকদের।
স্থানীয়দের দাবি, হাওরের অর্ধেকের বেশি বোরো ধান ইতোমধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দ্রুত পানি না সরালে পুরো ফসলই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে নতুন করে আরও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। কাশেমপুর পাম্প হাউস এলাকায় পানি নিষ্কাশনের কাজ চললেও তা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না।
কৃষক আনসার মিয়া জানান, “গত দুই দিনে আমার আরও ৮ থেকে ১০ কিয়ার জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে ধান শুকানোর খলাও ডুবে যাবে। আমরা বড় বিপদে আছি।”
একই এলাকার কৃষক আব্দুল খালিকসহ অনেকে অভিযোগ করেন, পাম্প হাউস যথাযথভাবে পানি নিষ্কাশন করতে ব্যর্থ হওয়ায় ৫ থেকে ৭টি গ্রামের কৃষক চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পাশাপাশি শ্রমিক সংকট ও উচ্চ মজুরির কারণে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটাও সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানান, জেলায় এ বছর ৬২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে, যার মধ্যে কাওয়াদিঘি হাওরে চাষ হয়েছে ২৩ হাজার হেক্টরের বেশি। সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৩৪৯ হেক্টর জমি নিমজ্জিত হয়েছে এবং ৮২ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।
তবে মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, এখনো অর্ধেকের বেশি ধান মাঠে রয়ে গেছে, যার বড় অংশই এখন পানির নিচে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, কাশেমপুর পাম্প হাউসের ক্যাপাসিটি অনুযায়ী পানি নিষ্কাশন চলমান থাকলেও অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পানির চাপ অনেক বেশি। ফলে পানি দ্রুত নামছে না।
পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ বলেন, “বৃষ্টিপাতের পরিমাণ পাম্পের নিষ্কাশন ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় পানি কমছে না। নিষ্কাশন কার্যকারিতা সীমিত হওয়ায় হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ১০ দিন ধরে তারা জলাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই করছেন। দ্রুত পাম্পের সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে মনু নদী সেচ প্রকল্পের আওতাধীন প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমির অবশিষ্ট ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হাওরপাড়ের কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।