ঢাকাবুধবার , ৪ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

রাজশাহীতে শব্দ দূষণ বেড়েই চলেছে, ৫ বছরে বেড়েছে ১২ ডেসিবেলের বেশি

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৮ সকাল

Link Copied!

রাজশাহী নগরের শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান চত্বর (রেলগেট) এলাকায় শব্দ দূষণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ২০২২ সালে যেখানে শব্দের মাত্রা ছিল ৯০ ডেসিবেল, সেখানে চলতি বছরের সর্বশেষ পরিমাপে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ দশমিক ১ ডেসিবেল। অর্থাৎ পাঁচ বছরে এ এলাকায় শব্দের মাত্রা বেড়েছে ১২ দশমিক ১ ডেসিবেল।

অথচ শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী বাণিজ্যিক এলাকায় দিনের বেলায় শব্দের সর্বোচ্চ সীমা ৭০ ডেসিবেল। সেই হিসেবে রেলগেট এলাকায় বর্তমানে নির্ধারিত সীমার তুলনায় অনেক বেশি শব্দ দূষণ হচ্ছে।

রাজশাহীর বেসরকারি সংগঠন বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গত শনিবার দুই দফায় শব্দের মাত্রা পরিমাপ করে এ তথ্য জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনটির সদস্যরা এলাকায় ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে জনসচেতনতা তৈরির কার্যক্রমও চালান।

সংগঠনটির তথ্যে দেখা যায়, শনিবার সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত গড় সর্বোচ্চ শব্দের মাত্রা ছিল ১০০ দশমিক ৫ ডেসিবেল। একই দিন বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তা বেড়ে ১০৩ দশমিক ৭ ডেসিবেলে পৌঁছায়। প্রতি পাঁচ মিনিট অন্তর ডেটা সংগ্রহ করে এই ফলাফল পাওয়া গেছে।

এর আগে ২০২২ ও ২০২৩ সালে একই স্থানে গড় শব্দের মাত্রা ছিল ৯০ ডেসিবেল। ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৬ ডেসিবেল এবং ২০২৫ সালে ছিল ৯৭ ডেসিবেল। সর্বশেষ পরিমাপে শব্দের মাত্রা ১০২ ডেসিবেলের বেশি পাওয়া গেছে।

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) ২০২২ সালে প্রকাশিত ‘ফ্রন্টিয়ারস ২০২২: নয়েজ, ব্লেজেস অ্যান্ড মিসম্যাচেস’ প্রতিবেদনে ঢাকাকে বিশ্বের সবচেয়ে শব্দ দূষণকারী শহর এবং রাজশাহীকে চতুর্থ অবস্থানে উল্লেখ করা হয়। সেখানে রাজশাহীতে শব্দের মাত্রা ১০৩ ডেসিবেল হিসেবে দেখানো হয়েছিল। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে তখন থেকেই নিয়মিত শব্দের মাত্রা পরিমাপ করছে সংগঠনটি।

শব্দের মাত্রা পরিমাপ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন খান। এ সময় ড. অলি আহমেদ, শামসুর রাহমান শরীফ, মো. ওবায়দুল্লাহ, রুমানা আহমেদ, ইফাত আরা, কলি আহমেদ, আবু তারেক বিন আজিজ ও রুহুল হাসান পলাশসহ সংগঠনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনটির মতে, শব্দ দূষণ বৃদ্ধির প্রধান কারণ যানবাহনের অতিরিক্ত হর্ন ব্যবহার। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অটোর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি এসব যানবাহনে উচ্চ শব্দের হর্ন ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। এ ছাড়া বাসগুলোকে যত্রতত্র থামানো এবং অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানোও শব্দ দূষণ বাড়াচ্ছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অটোরিকশায় নির্ধারিত ভেপু হর্ন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট লেন চালু এবং শহরে গতি সীমা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি শব্দ ও বায়ু দূষণ কমাতে নগরে বেশি করে গাছ লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রকৌশলী জাকির হোসেন খান বলেন, এটি নগরের একটি অত্যন্ত ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা। এখানে যানবাহন অযথা হর্ন দিচ্ছে। সচেতনতা বাড়ানো গেলে শব্দ দূষণ কিছুটা কমানো সম্ভব। পাশাপাশি নিয়মিত আইন প্রয়োগ জরুরি।

তিনি আরও বলেন, শব্দ দূষণে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে তাদের স্মরণশক্তি কমে যায়, মনোযোগ নষ্ট হয়। বয়স্কদের রক্তচাপ বৃদ্ধি, হৃদরোগের ঝুঁকি ও শ্রবণশক্তি হ্রাসের মতো সমস্যা দেখা দেয়। মানুষ খিটখিটে হয়ে পড়ে, সামাজিক অস্থিরতাও বাড়ে।

তিনি জানান, নগরে গাছপালা কমে যাওয়াও শব্দ দূষণ বৃদ্ধির একটি কারণ। গাছ শব্দের প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে। তাই শব্দ দূষণ রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ প্রয়োজন।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

নওগাঁয় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ব্যাংক কর্মচারীর মৃত্যু

সপ্তাহজুড়ে কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া? জানাল অধিদপ্তর

স্তনবৃন্তে স্পর্শ করলেই কেন হঠাৎ মন খারাপ, কী এই ‘স্যাড নিপল সিনড্রোম’?

upay Rewards Three Distributor Partners with Umrah Packages under ‘Shopner Umrah 2026’ Campaign

উপায়ের ‘স্বপ্নের ওমরাহ’ ক্যাম্পেইনে পুরস্কার পেলেন ৩ ডিস্ট্রিবিউশন পার্টনার

সাতক্ষীরায় ৭৫ শতাংশ জলবায়ু বাস্তুচ্যুত পরিবার তীব্র খাদ্য সংকটে

মিরপুর বেড়িবাঁধে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৪

হাসপাতাল নেই ৬০ গ্রামে, অসুস্থ হলে আট ঘণ্টার নদীপথ পাড়ি

চাঁদপুরে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে ৬ যানবাহনকে জরিমানা

ঢাকায় শুষ্ক আবহাওয়া, কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা

বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু রক্ষায় ১২ সংস্থার সঙ্গে ইউএনডিপির চুক্তি

সড়ক দুর্ঘটনার আচরণগত ঝুঁকি নিরসনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে মতবিনিময় সভা