উত্তরের জনপদ দিনাজপুরে বইছে কনকনে শীতের তীব্রতা। টানা কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই, আর বৃষ্টির মতো ঝরছে ঘন কুয়াশা। চারদিক ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকায় জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৪ শতাংশ, যা শীতের অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
দিনের বেশির ভাগ সময় সূর্যের অনুপস্থিতি ও হিমেল বাতাসের প্রভাবে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে চলাচল করা দূরপাল্লার যানবাহনগুলোকে সারাদিনই হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে হচ্ছে। এতে করে যান চলাচলে ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি যাত্রীদের ভোগান্তিও বেড়েছে।
তীব্র শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন। দিনমজুর কাদের বলেন, কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীত আমাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। শীত নিবারণের মতো গরম কাপড় কেনার সামর্থ্য আমাদের নেই। বড় লোকেরা চাইলে ঘরে থাকতে পারেন, কিন্তু আমরা দিন আনি দিন খাই-কাজ না করলে চুলায় আগুন জ্বলে না। পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে বাধ্য হয়েই প্রতিদিন কনকনে শীত উপেক্ষা করে কাজে বের হতে হচ্ছে।
এদিকে প্রচণ্ড শীতের কারণে শিক্ষার্থীরাও বিপাকে পড়েছে। শিক্ষার্থী তাপসী রায় বলেন, প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া এখন কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। ঠান্ডার প্রভাবে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে এবং শারীরিক অসুস্থতাও অনুভব করতে হচ্ছে।
দিনাজপুর জেলা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ। চলমান শৈত্যপ্রবাহ আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং এর পরিধি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


