
রাজধানী ঢাকায় সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাপমাত্রা হঠাৎ করে কমে যাওয়ায় নগরজুড়ে বইতে শুরু করেছে হিমেল বাতাস। এতে করে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে, বিশেষ করে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী।
সন্ধ্যার পর থেকেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। শীতের তীব্রতায় মানুষজন প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে চাইছেন না। যারা বাইরে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন, তারা সীমিত শীতবস্ত্রেই ঠান্ডা মোকাবিলা করছেন। ফুটপাত, বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনে অবস্থানরত ছিন্নমূল মানুষদের দুর্ভোগ বেড়েছে বহুগুণ।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চল থেকে আসা শীতল বায়ুর প্রবাহের কারণে ঢাকাসহ দেশের মধ্যাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহের অনুভূতি বেড়েছে। একই সঙ্গে রাত ও ভোরের দিকে কুয়াশার পরিমাণ বাড়তে পারে, যার ফলে সড়ক ও নৌপথে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
শীতের প্রভাবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোলা জায়গায় বসবাসকারীদের অনেককে আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায় পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি রাত ও ভোরে অপ্রয়োজনীয় বাইরে চলাচল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে শীত মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে দুস্থ ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।