
হিমালয়ের পাদদেশ ঘেঁষা জেলা পঞ্চগড়ে টানা দুই দিন ধরে জেঁকে বসেছে কনকনে শীত। সূর্যের দেখা না মেলায় জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা হিমশীতল বাতাস ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়েছে জেলার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
দিনভর আকাশ ঢেকে থাকে ঘন কুয়াশায়। সন্ধ্যার পর থেকে তেঁতুলিয়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় কুয়াশার দাপট বেড়ে যায়। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা আরও ঘন হয়ে শিশিরের মতো অনুভূত হচ্ছে। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় ঘরবন্দি হয়ে পড়ছেন অনেকেই।
তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৬ শতাংশ। এর আগের দিন রোববার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, কয়েকদিন ধরে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমাগত কমছে। সন্ধ্যার পর হালকা কুয়াশার সঙ্গে তীব্র শীত অনুভূত হলেও রাত নামলেই ঠান্ডা আরও বেড়ে যায়। ভোরে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে শীতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও বিকেলের পর পুনরায় বেড়ে যায়।
শীতের তীব্রতার কারণে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে তিন শতাধিক রোগী সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও অন্যান্য শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের অনেক ওয়ার্ডে স্থান সংকট দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে মেঝে বা বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনে জেলার তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। গতকাল দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল।