
পঞ্চগড়ে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা হিমশীতল বাতাস ও কনকনে ঠান্ডায় এ জেলার তাপমাত্রা ৯–১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে ওঠানামা করছে। ফলে শীতের প্রকোপ বেড়েছে এবং কয়েকদিন পর পরই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে এ জেলায়।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৭১ শতাংশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায়।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় উত্তরের হিমেল বাতাসের সঙ্গে ঘন কুয়াশায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর হালকা কুয়াশার সঙ্গে কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে। রাতভর হালকা থেকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে পুরো এলাকা। হিমেল বাতাস ও কুয়াশার কারণে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। পাথর শ্রমিক, চা শ্রমিক, রিকশা ও ভ্যানচালক এবং কৃষিশ্রমিকরা সীমাহীন কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। শীতের কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ রিকশা-ভ্যানে উঠতে অনাগ্রহী হওয়ায় এসব শ্রমজীবীর দৈনিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সকালে ঠান্ডা বাতাসে কাবু হয়ে মানুষ গরম কাপড় পরে বের হচ্ছেন, অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে শীতের প্রভাবে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে তিন শতাধিক রোগী কাশি, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেককে মেঝে ও বারান্দায় থাকতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে এ অঞ্চলে এক বা দুইটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।