
হিমালয় কন্যা খ্যাত দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে কনকনে শীতের দাপট বেড়েছে। হালকা কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় পুরো জেলায় নেমে এসেছে শীতের আমেজ। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতের প্রকোপ আরও বাড়ছে, আর সেই ঠান্ডা অনুভূতি টিকে থাকছে সকাল পর্যন্ত।
বুধবার (২৫ নভেম্বর) সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায় রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোরের দিকে কুয়াশার পাতলা চাদরে ঢাকা পড়েছে পুরো এলাকা। কুয়াশায় ঝরা শিশিরে বাড়ছে শীতের অনুভূতি। সন্ধ্যা নামতেই হিমেল হাওয়ার গতি বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে শীতের তীব্রতা, ফলে শীতের পোশাকের চাহিদাও বেড়েছে বাজারে।
স্থানীয়রা জানান, সাধারণত নভেম্বরের শুরু থেকে পঞ্চগড়ে শীত বাড়তে থাকে। তবে গত কয়েক বছর ধরে অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকেই শীতের আগমন দেখা যায়। নতুন ধানে কৃষকের ঘরে নবান্নের আনন্দও ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন ধানের গন্ধে পরিপূর্ণ গোলাগুলোর পাশাপাশি গ্রামীণ জনপদের হাট-বাজারে শুরু হয়েছে পিঠা-পুলির উৎসব। বিকেল হলেই শহরসহ বিভিন্ন স্থানে গরম পিঠার পসরা সাজিয়ে বসছেন দোকানিরা, আর ধোঁয়া ওঠা পিঠার স্বাদ নিতে ভিড় জমাচ্ছেন ভোজনরসিকরা।
শীতের মাঝেও জীবিকার টানে দিন শুরু করেছেন শ্রমজীবী মানুষজন। চা বাগান, খনি এলাকা ও নদীঘাটে সকাল থেকে শ্রমিকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রোদ ওঠায় সকালে কাজ কিছুটা স্বস্তিদায়ক হয়েছে বলে জানান তারা।
এদিকে শীতে শিশু ও বয়স্কদের মাঝে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাবও বেড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে রোগীর সংখ্যা গত সপ্তাহের তুলনায় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে নিউমোনিয়া, হাঁপানি ও সর্দি-কাশির রোগী বেশি আসছেন।
তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, হিমালয়–কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতের নিকটে হওয়ায় এই অঞ্চলে শীতের আগমন হয় আগেভাগেই। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকাল ৯টা ও ভোর ৬টা-দুই সময়েই তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে এখনো তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রির নিচে নামেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।