
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে শুষ্ক মৌসুমেও যমুনা নদীর তীব্র ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ৯ গ্রামে এই ভাঙনে পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর, দুটি মসজিদ, দুটি মাদরাসা, একটি কবরস্থান এবং শত শত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ধীতপুর-কুরসি গ্রামের দুটি হাট-বাজারের অর্ধেক অংশও ভাঙনের কবলে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে ভাঙন শুরু হলেও হেমন্ত ঋতুর ১৫ দিন পার হয়ে গেলেও অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আসে নি। ভাঙনের তাণ্ডবে এসব গ্রামের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ভাঙনের কবলে পড়া পরিবারের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, তাদের জীবন ও ফসল সংরক্ষণে রাত-দিন কাটে আতঙ্কে।
সোনাতনী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামছুল হক বলেন, “গত এক বছরে সোনাতনী ইউনিয়নের শ্রীপুর থেকে বারপাখিয়া পর্যন্ত প্রায় চার/পাঁচশ বাড়িঘর নদীতে চলে গেছে। ভাঙনরোধে দ্রুত বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। বারবার মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েও কোনো সমাধান মিলছে না।”
শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “পাঁচ/ছয় বছরে কমপক্ষে ২৭০ হেক্টর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সাম্প্রতিক ভাঙনে ৭০-১০০ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিপরীত পাশে ৮০-৯০ হেক্টর বালুর চর সৃষ্টি হয়েছে, তবে তা এখনও আবাদযোগ্য নয়।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবগত করা হয়েছে এবং তারা জিও ব্যাগের মাধ্যমে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেবেন।
স্থানীয়দের দাবি, ভাঙনরোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামীদিনে আরও অধিক এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।