
চট্টগ্রামে সড়কগুলোকে নিরাপদ রাখার জন্য নগরবাসীকে নিরাপদ গতিসীমা মেনে গাড়ি চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। আজ বুধবার (২২ অক্টোবর ২০২৫) জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৫ উপলক্ষে এক বাণীতে এ আহ্বান জানান তিনি।
বাণীতে তিনি বলেন, সরকার এ বছর জাতীয় সড়ক দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে “মানসম্মত হেলমেট ও নিরাপদ গতি: কমবে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি”। আমাদের শহরের প্রেক্ষাপটে এ প্রতিপাদ্য খুবই প্রাসঙ্গিক। জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের সড়কগুলোতে ৪৪ শতাংশ যানবাহনই বিআরটিএ নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলে না। লোকাল ও কালেকটরেট রাস্তায় ৪৫% যান অতিরিক্ত গতিতে চলে। ছুটির দিনে গতিসীমা লঙ্ঘন করার হার বেশি। এছাড়া, মোটর সাইকেলের মধ্যে গতিসীমা লঙ্ঘনের হার সর্বাধিক (৭০%)। শুধু তাই নয়, মোটর সাইকেল মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার করার হারও কম। গতি ও মানহীন হেলমেট মোটর সাইকেল ব্যবহারকারীদের মৃত্যু ও সম্পদ হানির ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে।
মেয়র আরো বলেন, আমাদের নগরীর সড়কে এইকইসাথে বিভিন্ন ধরণ ও গতির যানবাহন চলে; আবার পথচারীরাও সড়ক ব্যবহার করে। তাই রোড ক্র্যাশের ঝুঁকি কমাতে নিরাপদ গতি ও হেলমেট ব্যবহারের বিকল্প নেই। সড়কে যানবাহনের গতি যত বেশি রোড ক্র্যাশ ও মৃত্যুঝুঁকি তত বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, গড়ে ৫% গতি কমালে রোড ক্রাশের ঝুঁকি ৩০% কমে। একটি গাড়ি যত বেশি গতিতে চলবে, সেটি থামাতে তত বেশি দূরত্ব প্রয়োজন। যেমন: ৫০ কি.মি. গতিতে চলমান গাড়ি থামাতে ১৪ মিটার দূরত্ব প্রয়োজন। তাই গতি যত কম থাকবে, চালকের পক্ষে পরিস্থিতি অনুসারে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা ততই সহজ হবে।
বাণীতে বলা হয়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) যানবাহনের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা ২০২৪-এ শহরের সড়কে যানবাহনের গতি নির্ধারণ করা দিয়েছে। নির্দেশিকা অনুসারে, শহরের ভিতরে কমপক্ষে ৬ লেনে বিভক্ত, ফুটপাথ ও সড়ক পারাপারের ব্যবস্থা রয়েছে – এমন সড়কে কার, মাইক্রো, জিপ ইত্যাদি হালকা মোটর যান, বাস-মিনিবাস ইত্যাদি মাঝারি ও ভারী যানের সর্বোচ্চ গতিসীমা ৪০ কি.মি./ঘন্টা এবং ট্রাক, মিনিট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ইত্যাদি মালবাহী ভারী যান ও মোটর সাইকেলের সর্বোচ্চ গতি ৩০ কি.মি./ঘন্টা। এছাড়া অবিভক্ত ও দুই লেনবিশিষ্ট সড়কে কার, মাইক্রো, জিপ ইত্যাদি হালকা মোটর যানের সর্বোচ্চ গতিসীমা ৪০ কি.মি./ঘন্টা এবং মোটর সাইকেলের গতি ৩০ কি.মি./ঘন্টা। অন্যদিকে সংকীর্ণ ও অন্যান্য সড়কে মোটর গাড়ির সর্বোচ্চ গতিসীমা ৩০ কি.মি./ঘন্টা এবং মোটর সাইকেলের গতি ২০ কি.মি./ঘন্টা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তাই নিরাপদ চট্টগ্রাম বিনির্মাণে নগরীতে চলাচলকারী যানবাহন চালকদের উক্ত গতিসীমা মেনে নিরাপদে গাড়ি চালানোর আহ্বান জানান মেয়র। তিনি উল্লেখ করেন, চসিক ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটির সাথে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সড়ক নিরাপত্তায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ও ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও মোড় চিহ্নিত করছে। ওয়াল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের সহায়তায় এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের নিরাপদ ডিজাইন করা হচ্ছে। সিএমপি ও গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশিপ-এর সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তায় বিদ্যমান আইনকানুন বাস্তবায়নে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হচ্ছে। জনহপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল ইনজ্যুরি রিসার্চ ইউনিট ও সেন্টার ফর ইনজ্যুরি প্রিভেনশন রিসার্চ বাংলাদেশ এর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সড়কে মানুষের আচরণগত জরিপ করা হচ্ছে। ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের সহায়তায় সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ আয়োজন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা সম্পর্কে নগরবাসীকে সচেতন করতে ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের কারিগরি সহায়তায় চসিকের উদ্যোগে প্রচারণা ক্যাম্পেইনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সবশেষে মেয়র নগরবাসীদের সচেতনভাবে সড়ক ব্যবহার করার অনুরোধ জানান। পথচারীদের ফুটপাথে হাঁটা ও নির্দিষ্ট স্থান দিয়ে সড়ক পার হওয়া, মোটর সাইকেল ব্যবহারকারীদের গতিসীমা মানা ও মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার এবং কার-বাসসহ মোটর যান চালকদের শহরের সড়কে গতিসীমা ও ট্রাফিক আইন মেনে গাড়ি চালানোর অনুরোধ জানান তিনি।