
অস্ট্রেলিয়ায় অত্যন্ত সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লুর বিস্তার ঠেকাতে ঝুঁকিতে থাকা কিছু বন্য ও বন্দি পাখিকে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এইচ৫ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে হাঁস-মুরগি ও বন্য পাখির মধ্যে গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। কয়েক বছর ধরে অস্ট্রেলিয়াই ছিল বিশ্বের একমাত্র মহাদেশীয় ভূখণ্ড, যেখানে এই ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি।
তবে গত জুনে একটি পরিযায়ী সামুদ্রিক পাখির শরীরে প্রথমবারের মতো এইচ৫ ভাইরাস শনাক্ত হয় অস্ট্রেলিয়ায়। এরপর গত সপ্তাহে দেশটির সরকার বন্য পাখির ব্যাপক মৃত্যুর প্রথম ঘটনা শনাক্ত হওয়ার কথা জানায়।
ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে বন্য ও বন্দি—উভয় ধরনের পাখির জন্য লক্ষ্যভিত্তিক টিকাদান কর্মসূচি চালুর কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে বন্য পাখিকে টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশমন্ত্রী মারে ওয়াট।
তিনি বলেন, বন্য পাখিকে টিকা দেওয়া কঠিন। কারণ একটি পাখিকে টিকা দিতে দুটি ডোজ প্রয়োজন। একবার বন্য পাখি ধরাই যেখানে কঠিন, সেখানে একই পাখিকে দুইবার ধরা আরও কঠিন। তবে যেখানে সম্ভব হবে, সেখানে বন্য পাখিকেও টিকা দেওয়া হবে। বন্দি অবস্থায় থাকা পাখিদের টিকাদানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় আরও ব্যাপকভাবে পাখি মারা যেতে পারে—এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তাঁর আশঙ্কা, এইচ৫ ভাইরাস দেশটির বিভিন্ন এলাকায় আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলচর, তীরবর্তী, সামুদ্রিক ও শিকারি পাখির মধ্যে এইচ৫ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
সোমবার পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় এইচ৫ বার্ড ফ্লুর ২৩১টি নিশ্চিত বা সম্ভাব্য সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। তবে দেশটির হাঁস-মুরগির খামার ও কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় এখন পর্যন্ত ভাইরাসটির কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি।
অস্ট্রেলিয়ার জীববৈচিত্র্যের জন্যও এই পরিস্থিতি বড় উদ্বেগের কারণ। দেশটির প্রায় অর্ধেক বন্য পাখির প্রজাতি এবং ৮৩ শতাংশ স্তন্যপায়ী প্রাণী বিশ্বের অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। ফলে এইচ৫ ভাইরাসের বিস্তার দেশটির বিরল ও স্থানীয় প্রাণীপ্রজাতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।