
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কেবল দুর্ঘটনা নয়, এর পেছনে অন্য কোনো ষড়যন্ত্রও থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
শনিবার রাতে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এই ঘটনা কেবল একটি দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে-তা খতিয়ে দেখতে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত শুরু করা উচিত।”
তিনি উল্লেখ করেন, গত কয়েক দিনে স্থানীয় ও রফতানিমুখী একাধিক পোশাক কারখানায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে, যা এই অগ্নিকাণ্ডকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “কার্গো ভিলেজের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি জায়গায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিয়েছে-এটি কতটা অনিরাপদ। আমরা রফতানিকারকরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছি, আমাদের পণ্য খোলা জায়গায় রাখা হয়, যা নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রাম ইপিজেডে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পর কার্গো ভিলেজে এ ধরনের ঘটনা আমাদের উদ্যোক্তাদের মধ্যে নিরাপত্তা বিষয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এ পরিস্থিতি বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।”
কার্গো ভিলেজ মূলত তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিস, ওষুধ শিল্প ও কৃষিপণ্য রফতানিকারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখান থেকে তৈরি পোশাক, ইলেকট্রনিক পণ্য, শাকসবজি ও অন্যান্য পচনশীল পণ্য আকাশপথে আমদানি-রপ্তানি করা হয়।
ক্ষতির পরিমাণ এখনও সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি জানিয়ে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, “সম্পূর্ণ তদন্ত শেষে সামগ্রিক ক্ষতির চিত্র পাওয়া যাবে। আমরা সদস্যদের কাছে চিঠি পাঠাবো, যাতে তারা তাদের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সমিতির কাছে জমা দিতে পারেন।”
এ ঘটনায় ইতিমধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে বিস্তারিত তদন্ত শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।