
সাতসকালেই টানা দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকায় সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। ভোর ৫টা ৪০ মিনিট থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত নামা প্রবল বৃষ্টি আর বজ্রপাতে শহরের অধিকাংশ এলাকা হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যায়।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩৪ মিলিমিটার। অল্প সময়ের এই বৃষ্টিতেই শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগে ফেলেছে।
সকাল থেকেই ধানমন্ডি, কলাবাগান, মোহাম্মদপুর, আসাদগেট, নিউমার্কেট, মগবাজার, মিরপুর ১০ ও শেওড়াপাড়াসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে ডুবে যায়। কোথাও দীর্ঘ যানজট, কোথাও আবার যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে অফিসগামী ও কর্মজীবী মানুষের দুর্ভোগ সীমাহীন হয়ে ওঠে।
শেওড়াপাড়া থেকে অফিসগামী ফাহিম নামের এক তরুণ জানান, “গাড়ি নেই, রিকশাও পাওয়া যাচ্ছে না। রাস্তায় এত পানি যে হেঁটে যাওয়া সম্ভব নয়। রিকশা পেলেও ভাড়া নিচ্ছে দ্বিগুণ।” অন্যদিকে ধানমন্ডি থেকে অফিসে যাওয়ার পথে আসাদগেটে আটকে পড়া ফারজানা হাসিন বলেন, “কোমরসমান পানি। বৃষ্টিতে দেরি হয়ে গেছে, এখন সময়মতো অফিসে পৌঁছানোই হবে না।”
বাসস্ট্যান্ড ও অলিগলিতেও একই চিত্র। মানুষকে বাধ্য হয়ে হাঁটুপানি মাড়িয়ে চলতে দেখা গেছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বৃষ্টি কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপের সম্ভাবনা রয়েছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৈরি হতে পারে। এছাড়া ২৪ সেপ্টেম্বর নাগাদ আরও একটি লঘুচাপের আশঙ্কা রয়েছে, যা ঘনীভূত হয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণ হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক গরম ও ভারী আবহাওয়া বিরাজ করছিল। আবহাওয়া অফিস আগেই জানিয়েছিল ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। তবে মাত্র এক-দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতেই পুরো ঢাকা স্থবির হয়ে পড়ায় আবারও প্রশ্ন উঠেছে—কীভাবে একটি আধুনিক শহর এত সহজেই অচল হয়ে পড়ে?