
বরগুনা জেলার অধিকাংশ সড়কের বেহাল দশায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সড়কে বড় বড় গর্ত, উঠে যাওয়া পিচ-পাথর ও যানবাহন বিকল হওয়ার কারণে প্রতিনিয়ত দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। শুকনো মৌসুমে ধুলা, বর্ষায় কাদা—দু’ভাবেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চালক ও যাত্রীদের। স্থানীয়রা বলছেন, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে সড়ক দিয়ে চলাচল এখন একপ্রকার আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল চিত্র
সরেজমিনে দেখা যায়, আমতলী-তালতলী-সোনাকাটা সড়ক জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক। পর্যটন সম্ভাবনাময় তালতলী উপজেলা থেকে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র পথ এটি। তবে বর্তমানে অন্তত ২৪ কিলোমিটার অংশে বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাচ্ছে।
একইভাবে সদর উপজেলার নলী বাজার থেকে বরগুনা পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার সড়কের অবস্থাও নাজুক। ছোটবগী-তালতলী, বরগুনা-চালিতাতলী, বরগুনা-কালিরতবক, পরীর খাল-রাখাইনপাড়া, বামনা-খোল পটুয়া, ডৌয়াতলা-আয়লা বাজার, বৈকালীন বাজার-আয়লা ও পচাকোড়ালীয়া-চান্দখালীসহ একাধিক সড়কও খানাখন্দে ভরপুর। এসব সড়কে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে এবং ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন জেলার ছয়টি উপজেলার লাখো মানুষ।
বাজেট ও বাস্তবতা
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, বরগুনায় মোট ৭ হাজার ৫৬১ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা সড়কের মধ্যে ১ হাজার ৪৪১ কিলোমিটার কার্পেটিং এবং বাকি ৬ হাজার ১২০ কিলোমিটার কাঁচা। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি অর্থবছরে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ কার্পেটিং সড়ক সংস্কার প্রয়োজন হয়। সে হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪৮০ কিলোমিটার সড়ক মেরামত করতে হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩১২ কোটি টাকা।
কিন্তু চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ এসেছে মাত্র ৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে আগের অসমাপ্ত কাজ বাবদ বাদ যাবে ২০ কোটি টাকা। ফলে নতুন মেরামতের জন্য থাকছে মাত্র ১৪ কোটি টাকা, যা দিয়ে সর্বোচ্চ ২১ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার সম্ভব হবে—প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র ৪.৩৭ ভাগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ
চালক ও যাত্রীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর রাস্তার একই অবস্থা চলছে। মো. নাইম, সত্তার, আব্দুস খালেক ও জতিন্দ্রসহ বেশ কয়েকজন চালক বলেন, “প্রায়ই গর্তে পড়ে গাড়ি নষ্ট হয়। যাত্রীরা বিরক্ত হয়ে ঝগড়া করেন। সরকার পাল্টায়, কিন্তু রাস্তার চেহারা পাল্টায় না।”
কালিরতবক এলাকার জাফর হোসেন হাওলাদার বলেন, “কালিরতবক থেকে বরগুনা পর্যন্ত সাত কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা ভয়াবহ। গত বছর তিন কিলোমিটার সংস্কার হলেও বাকি অংশ এখনও বেহাল। গাড়ি তো দূরের কথা, এখন হাঁটতেই কষ্ট হয়।”
কর্তৃপক্ষের অবস্থান
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান খান বলেন, “বরাদ্দ সীমিত হওয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো আগে সংস্কার করা হচ্ছে। অতিরিক্ত অর্থের আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”