
রাজধানী ঢাকার বায়ুমানে গতকালের তুলনায় তেমন পরিবর্তন হয়নি। আজ শনিবার (১৬ আগস্ট) সকালে ঢাকার বাতাস সহনীয় পর্যায়েই রয়েছে বলে জানিয়েছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার।
শনিবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের রেকর্ড অনুযায়ী ঢাকার বায়ুমান সূচক (একিউআই) দাঁড়িয়েছে ৭৬, যা সহনীয় পর্যায়ের নির্দেশক। আজকের হিসেবে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১৭তম। গতকাল শুক্রবার ঢাকার বায়ুমান ছিল ৭৮, তখন অবস্থান ছিল ১৯তম।
এদিকে, আজ দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা। শহরটির বায়ুমান সূচক ১৮৩, যা সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর (একিউআই ১৬০)। সমান সূচক ১৫৯ নিয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি ও ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা। পঞ্চম স্থানে রয়েছে উত্তর মেসিডোনিয়ার রাজধানী স্কপিয়ে, যার একিউআই ১৫৭।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ঢাকার বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণাই (PM2.5) দূষণের মূল উৎস। দীর্ঘমেয়াদে এ দূষণ শ্বাসতন্ত্রের রোগ, হৃদরোগ এমনকি ক্যানসারের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী—
একিউআই ৫০-এর নিচে বিশুদ্ধ,
৫১-১০০ সহনীয়,
১০১-১৫০ সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর,
১৫১-২০০ সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর,
২০১-৩০০ খুব অস্বাস্থ্যকর এবং
৩০০-এর ওপরে বাতাসকে দুর্যোগপূর্ণ ধরা হয়।
২০২৩ সালের নভেম্বরে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল (বিএমজে) প্রকাশিত এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সৃষ্ট বায়ুদূষণে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫২ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, গৃহস্থালি ও পারিপার্শ্বিক বায়ুদূষণের সম্মিলিত প্রভাবে বছরে মারা যায় ৬৭ লাখ মানুষ।
ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সবাইকে বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার, সংবেদনশীল ব্যক্তিদের অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, ইটভাটা ও শিল্পকারখানায় বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ রাখা, নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা ও নিয়মিত পানি ছিটানো, এবং পুরোনো ও ধোঁয়াযুক্ত যানবাহন রাস্তায় না নামানোর আহ্বান জানিয়েছে।