
বাংলাদেশে বেশির ভাগ বাড়িতে ফ্রিজ আছে। সেসব ফ্রিজভর্তি রাখা হয় খাবার। আমরা জেনে না বুঝে ফ্রিজে খাবার রাখি। যে খাবারটি স্বাভাবিক পরিবেশে বাইরে ভালো থাকে সেটিও রাখা হয়। আবার এও জানি না যে, ফ্রিজে খাবার রাখলে পুষ্টিগুণ কতটা কমে যেতে পারে। আজকে আমরা কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের ফ্রিজে সংরক্ষণের ব্যাপারে জানবো।
আলু
বাংলাদেশে খাবারের মেনুতে আলু গুরুত্বপূর্ণ। হরেক রকম খাবার তৈরি হয় আলু দিয়ে। অনেকে আলু ফ্রিজে সংরক্ষণ করেন। ঠান্ডা তাপমাত্রায় আলুর স্টার্চ শর্করা বা চিনিতে রূপান্তরিত হয়। ফলে ফ্রিজে রাখা আলু খেতে তুলনামূলক মিষ্টি লাগে এবং এটি অস্বাস্থ্যকরও। ৪৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় (৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস) আলু সবচেয়ে ভালো থাকে। একটি কাগজের ব্যাগে ঢুকিয়ে মোটামুটি ঠান্ডা কোনো রুমে আলু সংরক্ষণ করা যেতে পারে। আলুতে যাতে সূর্যের আলো না লাগে। সূর্যের আলো পড়লে আলুতে ক্লোরোফিল জমা হয় এবং খেতে বিস্বাদ লাগে।
কলা
কলা ফ্রিজের ঠান্ডায় একেবারেই ভালো থাকে না। সত্যি বলতে, ঠান্ডার কারণে কলার খোসা দ্রুত কালো হয়ে যেতে পারে! আপনার কলার সেরা স্বাদ পেতে, পাকার আগেই কিনুন এবং রান্নাঘরে ঘরের তাপমাত্রায় স্বাভাবিকভাবে পাকতে দিন।
শসা
শসা ফ্রিজে রাখা উচিত নয়। ফ্রিজে রাখলে এর তাজা ভাব নষ্ট হয়। রাখলেও ফ্রিজের সবচেয়ে উষ্ণ জায়গায় রাখা উচিত। শসার কচকচে ভাব ধরে রাখার জন্য ভিনেগার দিয়ে ধুয়ে কোনো বক্সের মধ্যে চুবিয়ে ঢাকনা দিয়ে ফ্রিজে রাখা যেতে পারে। এতে কচকচে ভাবটা অন্তত ১ সপ্তাহ পর্যন্ত থাকবে।
তরমুজ
পুষ্টি তালিকায় তরমুজ গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে তরমুজ কেটে ফ্রিজে সংরক্ষণ করেন। এটা মোটেও ঠিক না। এটা দ্রুত পচনশীল।
পেঁয়াজ
পেঁয়াজ গরম আবহাওয়ায় ভালো থাকে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, তাজা থাকার জন্য সঠিক বায়ু চলাচল প্রয়োজন। পেঁয়াজ কাটা, ভাজা বা আস্ত যাই হোক না কেন, এটি ফ্রিজে রাখা যাবেই না। এটি রান্নাঘরে স্বাভাবিক তাপমাত্রাতেই সংরক্ষণ করতে হবে।
রসুন
পেঁয়াজের মতো রসুনও ফ্রিজে রাখা যাবে না। ফ্রিজে রাখলে এটি দ্রুত অঙ্কুরিত হয়ে যেতে পারে। আবার নষ্টও হয়ে যেতে পারে। রসুনের জন্য ফ্রিজ এড়িয়ে চলাই ভালো!
কফি
কফি বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এটি শুকনো আবহাওয়াতে রাখতে হয়। কফির সর্বোচ্চ স্বাদ পেতে দানাগুলোর আর্দ্রতা অপসারণ করা হয়। কিন্তু ফ্রিজে রাখলে কফির গুণাগুণ ও সুগন্ধ নষ্ট হতে পারে। তাই কফির দানা কখনো ফ্রিজে রাখা উচিত না। বরং কোনো বায়ুরোধক বক্স বা বোতলে ঢুকিয়ে সাধারণ কক্ষ তাপমাত্রায় রাখা যেতে পারে।
পাউরুটি
ফ্রিজে পাউরুটি রাখা একটি বড় ভুল। কারণ এটি পাউরুটিকে দ্রুত বাসি করে তোলে। এটি খোলা জায়গাতেও রাখা যাবে না। বাতাস স্পর্শ করলে এতে ব্যাকটেরিয়া জমে যেতে পারে। এটি ভালোভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। তবে সেটা ফ্রিজে নয় কিন্তু!
মধু
মধু একটি আবদ্ধ বায়ুরোধী বোতলে বা পাত্রে সংরক্ষণ করলে শত বছরও ঠিক থাকতে পারে। এটি ফ্রিজের ভেতরে নেওয়া যাবে না। সেরা স্বাদ পেতে বাইরে স্বাভাবিক আবহাওয়ায় এটি রাখতে হবে।
টমেটো
বেশি ঠান্ডা পরিবেশে রাখলে টমেটোতে থাকা রাসায়নিক উপাদানগুলোতে পরিবর্তন আসে। ফলে সবজিটির তাজা ভাব চলে যায়। ফ্রিজে রাখলে টমেটো নরম হয়ে যেতে পারে। তাই স্বাদ ঠিক রাখতে চাইলে এই সবজিটি বাইরে কোনো খোলা পরিবেশে রাখুন।
ডিম
ফ্রিজে ডিম সংরক্ষণ নিয়ে নানা মত রয়েছে। অনেকে অযথা ফ্রিজে রাখেন। কারণ এটি অন্তত কিছু দিন বাইরের তাপমাত্রায় ভালো থাকে। এতে স্বাদও ভালো থাকে।
মরিচ
ফ্রিজ মরিচকে আরও মচমচে বা ঝাল করে না। এটি আপনার প্রিয় মরিচের ঝালভাব কমাতে পারে। তাদের সম্পূর্ণ স্বাদ বজায় রাখতে, এগুলিকে একটি শুকনো জায়গায়, আদর্শভাবে একটি ব্যাগে সংরক্ষণ করুন।
সূত্র : কারনোভেলস ডটক