
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া জানায়, এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে শহরের উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায়।
মিয়ুন জেলায় ২৮ জন এবং ইয়ানচিং জেলায় আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর। গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণ সোমবার আরও তীব্র রূপ নেয়।
সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, বেইজিংয়ের উত্তরাঞ্চলে সর্বোচ্চ ৫৪৩ মিলিমিটার (২১.৩ ইঞ্চি) পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মঙ্গলবারও বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে এবং কিছু এলাকায় আরও ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে ৮০ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সিসিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যায় বহু সড়ক বিধ্বস্ত হয়েছে, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে অন্তত ১৩৬টি গ্রামে।
এদিকে, মিয়ুন জেলার একটি জলাধারে পানি ধারণক্ষমতা ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে বাধ্য হয়ে সেখান থেকে পানি ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে নিচু এলাকায় নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রাজধানী বেইজিংয়ের ১০০ কিলোমিটার দূরের তাইশিতুন শহরে বৃষ্টির কারণে রাস্তায় কাদা জমে গেছে, বহু গাছ উপড়ে পড়েছে এবং যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
বেইজিংয়ের দক্ষিণে হেবেই প্রদেশেও ভূমিধসে আরও ৪ জনের মৃত্যু এবং ৮ জনের নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সোমবার রাতে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে প্রাণহানি কমানো যায়। এছাড়াও, স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের ঘরে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছে, স্কুল ও নির্মাণকাজ সাময়িক বন্ধ এবং আউটডোর পর্যটন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।